মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

ড. ইউনূসের ৮ প্রতিষ্ঠান জবরদখলের অভিযোগ, যা বলছে গ্রামীণ ব্যাংক

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৯৫ বার

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার আটটি প্রতিষ্ঠান জবরদখলের যে অভিযোগ করেছেন তা অস্বীকার করেছে গ্রামীণ ব্যাংক। ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান বলছেন, আইন মেনেই সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান সাইফুল মজিদ এসব বিষয়ে কথা বলেন।

গ্রামীণ টেলিকম ভবনের সাতটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন মেনেই তা করা হয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে ড. ইউনূসের কোনো মালিকানা বা শেয়ার নেই।

ড. ইউনূস গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাদের আটটি প্রতিষ্ঠান জবরদখল করেছে গ্রামীণ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান তিনি ব্যবসার মুনাফা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ড. ইউনূসের সেই অভিযোগের জবাব দিতে আজ সংবাদ সম্মেলন ডাকে গ্রামীণ ব্যাংক।

সাইফুল মজিদ দাবি করেন, ড. ইউনূস ব্যবসার মুনাফা দিয়ে গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণসহ অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান করেননি। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

‘গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূসের কোনো প্রতিষ্ঠান জবরদখল করেনি। সবকিছু আইন মেনে করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ড. ইউনূসের নয়; বরং গ্রামীণ ব্যাংকের।’

তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪২তম সভায় কোম্পানি আইনের আলোকে ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ কল্যাণ গঠিত হয়। আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের ৪৮ নম্বর ধারায় বলা আছে, গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে পারবে।

তিনি দাবি করেন, গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৪৪৭ কোটি টাকা নিয়েছেন। গ্রামীণ টেলিকম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ২৪ কোটি টাকা অনুদান নিয়েছেন। কিন্তু গ্রামীণ টেলিকম এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংককে সুদ ও লভ্যাংশ বাবদ কোনো টাকা দেয়নি।

ড. ইউনূসের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরো বলেন, সাতটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে নিতে তারা চিঠি দিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ সামগ্রী ও গ্রামীণ শক্তি—এই সাত প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও পরিচালক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু ড. ইউনূস আটটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলেছেন। এ তথ্য সঠিক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে ড. ইউনূসের কোনো মালিকানা ও শেয়ার নেই।

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, গত সোমবার গ্রামীণ ব্যাংকের ১৫৫তম বোর্ড সভায় সাতটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও নির্দিষ্টসংখ্যক পরিচালক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ গ্রামীণ ব্যাংকের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন মেনে করা হয়েছে। এখানে কোনো বেআইনি বা নিয়মবহির্ভূত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ জুবায়েদ, আইন উপদেষ্টা মাসুদ আক্তারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com