বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার মাজারে চিফ হুইপসহ হুইপবৃন্দের শ্রদ্ধা অর্থনৈতিক সুনামি! ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ! পেন্টাগনের তথ্য ফাঁস : ১০ দিনের বেশি যুদ্ধ চললে ফুরিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উদাসীনতা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তেহরান সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা খামেনির দাফনের স্থান নির্ধারণ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ‘কনভিকশন ওয়ারেন্ট’ যাবে ইন্টারপোলে

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দেশে ফেরাতে ‘কনভিকশন ওয়ারেন্ট’ বা সাজার পরোয়ানাসহ আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে আবেদন জানাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের স্বাক্ষর না হওয়ায় এ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি গতকাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা কর্তৃপক্ষের দপ্তর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠাননি ট্রাইব্যুনাল। জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় রায় সত্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে গতকাল পর্যন্ত রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়নি।

গত বছর জুলাই আন্দোলন চলাকালে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপরাধে প্ররোচণা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্র তথা মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে গত সোমবার মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় অপর আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, এটি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। এই রায়ের শেষ প্যারাতেই উল্লেখ আছে, বিনামূল্যে এ রায়ের সত্যায়িত একটি অনুলিপি প্রসিকিউশন পাবে। এ মামলায় যে আসামি রায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন তিনি রায়ের একটি কপি পাবেন; যে আসামিরা পলাতক আছেন তাঁরা যদি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্থন করেন অথবা গ্রেপ্তার হন তাহলে তাঁরাও রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাবেন। রায়ের কার্যকারিতার জন্য আরেকটি অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাবেন।

প্রসিকিউশনের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, যে দুজন আসামি পলাতক রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপিসহ রেড নোটিশ জারির আবেদন আমাদের আগেই করা আছে। এখন আমরা সেটাকে সংশোধন করে পরোয়ানার বদলে ‘কনভিকশন ওয়ারেন্ট’ বা সাজার পরোয়ানা বলে তাঁদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আরেকটি আবেদন করব। সেটা করা হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। এর জন্য আমাদের কাজ শুরু হয়েছে।

জুলাই আন্দোলন দমনে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবলিটি এবং জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল আসামিদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও তিনটি অভিযোগ মিলিয়ে তাঁকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। আর আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অন্যদিকে আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় সাবেক আইজিপিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার শুরু থেকেই শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক রয়েছেন। যে কারণে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করার সুযোগ পাবেন। রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তবে আপিলের সুযোগ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে হবে।

গতকালও ছিল সেনা-বিজিবির নিরাপত্তা : রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই দিন আগে থেকে সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, তা গতকাল পর্যন্ত বহাল থাকতে দেখা যায়।

এদিন সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশ, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনা ও বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা টিম অবস্থান নিয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন। পথচারী থেকে শুরু করে আইনজীবী, সাংবাদিকÑ সবার পরিচয় যাচাই করে সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com