বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার মাজারে চিফ হুইপসহ হুইপবৃন্দের শ্রদ্ধা অর্থনৈতিক সুনামি! ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ! পেন্টাগনের তথ্য ফাঁস : ১০ দিনের বেশি যুদ্ধ চললে ফুরিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উদাসীনতা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তেহরান সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা খামেনির দাফনের স্থান নির্ধারণ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

কেন কাঁপে পৃথিবী কেন ঝুঁকিতে আমরা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার

ভূমিকম্প পৃথিবীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। পৃথিবীর গভীরের অদৃশ্য নড়াচড়া এক মুহূর্তেই শহর, জীবন আর বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারে। এ নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

প্রকৃতির আদিম শক্তি আমরা যে মাটির ওপর প্রতিদিন হাঁটি, ভবন নির্মাণ করি এবং শহর গড়ে তুলি, সেটি বাইরে থেকে দৃঢ় ও স্থির মনে হলেও বাস্তবে তা ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। পৃথিবীর ভূত্বক আসলে বিশাল আকারের বিভিন্ন শিলাস্তরে বিভক্ত, যেগুলো গলিত স্তরের ওপর ভাসমান। লাখো কোটি বছর ধরে পৃথিবীর ভেতরের শক্তি জমা হতে থাকে এবং নির্দিষ্ট মুহূর্তে সেই শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেয়ে কম্পন সৃষ্টি করে। এই শক্তি-মুক্তির ঘটনাই ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক সত্য, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে অচেতনভাবে ঘিরে রাখে।

ভূমিকম্প হলেই মানুষের মনে একই প্রশ্ন জাগে : পৃথিবী কেন কাঁপে? আর এর সামনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আমাদের করণীয় কী?

প্লেটের সঞ্চালন ও কম্পনের উৎস

পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে বিশাল ভূ-গঠনকারী প্লেটগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে নড়াচড়া করছে। এই নড়াচড়া সবসময় সমান নয়, কখনো তারা পরস্পরের দিকে এগিয়ে ধাক্কা খায়, কখনো দূরে সরে যায়, আবার কখনো পাশ ঘেঁষে একে অপরকে ঘষে যায়। তাদের সংযোগস্থল, যাকে চ্যুতি রেখা বলা হয়, সেই স্থানেই ঘর্ষণ ও চাপ জমতে থাকে। এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকলেও শিলাস্তর একসময় তা সহ্য করতে পারে না; তখন শিলাস্তর ভেঙে যায় এবং সঞ্চিত শক্তি মুহূর্তে কম্পন তরঙ্গ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। যে গভীর স্থান থেকে এই কম্পন শুরু হয়, সেটি ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা উৎসকেন্দ্র। আর এর ঠিক ওপরের ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা হয় উপকেন্দ্র, যেখানে কম্পনের প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। একেকটি ভূমিকম্পের শক্তি, স্থায়িত্ব এবং প্রভাব আলাদা হলেও এর মূল কারণ সবসময় একই : পৃথিবীর অভ্যন্তরে সঞ্চিত শক্তির হঠাৎ মুক্তি।

মানুষের স্মৃতিতে গাঁথা কম্পন

মানবসভ্যতার ইতিহাসে যত বড় ভূমিকম্প ঘটেছে, প্রতিটি কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনার রেকর্ড নয়, এগুলো মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, ব্যর্থতা, দুর্বলতা এবং প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। একই মাত্রার কম্পন এক দেশে সামান্য ক্ষতি করে, আরেক দেশে হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটায়, এই বৈপরীত্যই প্রমাণ করে অবকাঠামো, প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রের সক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১১ সালের জাপান সেই বৈপরীত্যের চূড়ান্ত উদাহরণ। সমুদ্রতলে হওয়া ৯.০ মাত্রার বিশাল ভূমিকম্প, আধুনিক রেকর্ডে অন্যতম শক্তিশালী, জাপানের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিকে মুহূর্তেই পরীক্ষা করে। ভবনগুলো টিকে গেলেও পরবর্তী সুনামির জলোচ্ছ্বাস উপকূলীয় শহরগুলোকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দেখায় যে প্রস্তুত জাতিও প্রকৃতির প্রতাপে পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তবু জাপানের পুনরুদ্ধারের গতি, উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনিক সক্ষমতা দেখায়, প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতিকে সীমিত রাখা যায়। অন্যদিকে ২০১০ সালের হাইতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। কম্পন মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হলেও পোর্ট-অ-প্রিন্সে হাজার হাজার ভবন ধসে পড়ে। কেন? কারণ দুর্বল নির্মাণমান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যাচাই-বাছাইহীন ভবন নির্মাণ, দারিদ্র্য ও রাষ্ট্রের সীমিত সামর্থ্য। ফলাফল, রেকর্ডসংখ্যক প্রাণহানি এবং একটি দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়া। একই ঘটনায় দুই দেশে এত ভিন্ন ফলাফল ভূমিকম্পকে কেবল ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দুর্যোগ হিসেবেও ভাবতে শেখায়। ২০০১ সালের গুজরাটও ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত। শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্য মুহূর্তে ধসে গেছে, পুরো জনপদ মানচিত্র থেকে উধাও হয়েছে। এই ভূমিকম্প দেখিয়েছে যে শুধু আধুনিক শহর নয়, ঐতিহাসিক নিদর্শন, গ্রামীণ জনপদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে। সব ঘটনাই আমাদের একটি মূল সত্য শেখা, ভূমিকম্পের শক্তি কখনো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়; কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে আমাদের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং ভবনগুলোর শক্তির ওপর। একই মাত্রার ঝাঁকুনিতে কেউ শুধু ভয়ে কেঁপে ওঠে আর কেউ চিরতরে জীবন হারায়। এই বৈষম্যই বলে দেয়, ভূমিকম্পের আসল গল্প মাটির নিচে নয়, বরং আমাদের নির্মাণব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমাজের সামগ্রিক সক্ষমতার মধ্যে লুকিয়ে আছে।

ঢাকার দুর্বলতা

ঢাকা একটি ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ভারতের প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের সংযোগস্থলের অস্থিরতার কারণে এখানে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বহুদিন ধরে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তার বিষয়। তবে ঢাকার জন্য আরও বড় উদ্বেগ লুকিয়ে আছে ভূ-পৃষ্ঠের নিচে নয়, বরং শহরের ওপরে, আমাদের তৈরি শহর কাঠামোর দুর্বলতায়। পুরান ঢাকার ঘনবসতি, সরু পথঘাট এবং ভবনগুলোর অতিরিক্ত গাদাগাদি অবস্থান একটি বিপর্যয়ের ছককে যেন আগেই এঁকে রেখেছে। বহু ভবন নির্মাণের সময় মানদণ্ড মানা হয়নি, কোথাও কম উপকরণ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে তৈরি, কোথাও আবার বছরের পর বছর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এমন কাঠামো স্বাভাবিক অবস্থায়ও ঝুঁকিপূর্ণ আর বড় ভূমিকম্পের মতো ঘটনায় মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। ঢাকার রাস্তাগুলো এমনিতেই যানজটে ভরে থাকে; বড় কোনো ভবন ধসে পড়লে ভারী উদ্ধারযন্ত্র, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বহু এলাকায় বৈদ্যুতিক তার, গ্যাসলাইন, পানির পাইপিং সব একে ওপরের খুব কাছে, ফলে ধ্বংসস্তূপের পাশাপাশি আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের দ্বিতীয় বিপর্যয়ের সম্ভাবনাও থাকে। আর যেখানে ভবনগুলোর মাঝের ফাঁকই নেই, সেখানে ধস নামলে আশপাশের বহু ভবন একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটাও সময়ের ব্যাপার। এ কারণে ঢাকার ভূমিকম্প শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবেই দেখা উচিত নয়। এটি মানবসৃষ্ট ভুল পরিকল্পনা, উপেক্ষা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলেও একটি বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। সত্যিকারের বিপর্যয় তাই শুধু কম্পনের মাত্রায় নয়, বরং শহরের প্রস্তুতিহীনতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

কোন মুহূর্তে কী করা জরুরি

ভূমিকম্প শুরু হওয়ার মুহূর্তে মানুষের প্রথম প্রতিক্রিয়া সাধারণত আতঙ্ক। কিন্তু প্রস্তুতি থাকলে আতঙ্কের মাঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। বিশ্ব জুড়ে স্বীকৃত তিনটি ধাপ হলো নিচু হওয়া, আশ্রয় নেওয়া এবং ধরে থাকা। কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে বসে পড়া বা হামাগুড়ি দেওয়া শরীরকে স্থিতিশীল রাখে। মাথা ও ঘাড়ের সুরক্ষার জন্য কোনো মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। আশ্রয় নেওয়া বস্তুটি শক্তভাবে ধরে রাখা জরুরি, কারণ কম্পনের সময় সেটি সরে যেতে পারে। এ সময় কিছু কাজ না করলেই ঝুঁকি কমে যায়, দৌড়াদৌড়ি করা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা লিফটে ওঠা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়া জানালার কাছাকাছি থাকাও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ কাঁচ ভেঙে আঘাত লাগতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে সুনামির সতর্কতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয় এবং দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে হয়। ভূমিকম্প ঠিক কখন ঘটবে, তা এখনো বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না। তবে ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত করে কয়েক সেকেন্ড আগেই সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়েছে। জাপানের আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম এই ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী। প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থেমে যায়, গ্যাসলাইন বন্ধ হয়ে যায় এবং জরুরি আলোর ব্যবস্থা চালু হয়, যা পরবর্তী ক্ষতিকর কম্পন পৌঁছানোর আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়াও এখন ক্রমে সাধারণ হয়ে উঠেছে। কয়েক সেকেন্ড শোনার মতো সামান্য সময় মনে হলেও, এটি অনেক জীবন বাঁচাতে পারে।

ভূমিকম্পের অদৃশ্য ক্ষতি

ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ থেমে যাওয়ার পরও মানুষের মনে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, সেটি অনেক সময় শারীরিক ক্ষতির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী। মাটি কিছুক্ষণ কেঁপেছিল ঘড়ির হিসেবে হয়তো কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু সেই কম্পন মানুষের শরীর-মনকে এমনভাবে নাড়া দেয় যে এর প্রতিক্রিয়া থেকে যায় সপ্তাহ, কখনো মাসের পর মাস। অনেক বেঁচে যাওয়া মানুষই জানান, তারা যেন আবার কাঁপুনি অনুভব করছেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে চারপাশ স্থির। এই অদৃশ্য অনুভূতিকেই বলা হয় ‘ভূত কম্পন’। এটি মূলত তীব্র ভয়ের পর শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, কিন্তু যারা এটি অনুভব করেন, তাদের কাছে অভিজ্ঞতাটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও কষ্টদায়ক হতে পারে। শিশুরা এ ধরনের দুর্যোগ মানসিকভাবে আরও গভীরভাবে অনুভব করে। তারা রাতে হঠাৎ জেগে ওঠে, কান্না করে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং তাদের আচরণে বদল দেখা যায়। ছোট শিশুদের পক্ষে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা বা তাদের ভয় প্রকাশ করা কঠিন; ফলে তারা আরও অসহায় বোধ করে। একইভাবে প্রবীণ মানুষ বা যারা আগে থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন, তাদের মধ্যেও আতঙ্কজনিত সমস্যা দ্রুত দেখা দিতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ভূমিকম্পের পর ত্রাণসামগ্রী, চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় এসব বিষয়ে যতটা মনোযোগ দেওয়া হয়, মানসিক পুনর্বাসনের দিকে ততটা নজর পড়ে না। অথচ একটি বড় দুর্যোগের পর মানসিক সহায়তা ঠিক ততটাই জরুরি, যতটা ভাঙা বাড়ি মেরামত করা বা আহতদের চিকিৎসা করা। কারণ মানুষের মন ভেঙে গেলে সমাজের পুনর্গঠন অনেক ধীর হয়ে যায়। মানসিক পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয় খুব ছোট ধাপ থেকে, নিরাপদ আশ্রয়ে শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, শিশুদের সঙ্গে কথা বলা, মানুষকে তাদের অভিজ্ঞতা শোনাতে সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া। এসব সহায়তা না থাকলে ট্রমা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কাজে, সম্পর্কে, এমনকি শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। জীবন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি মানুষের মনের ক্ষত সারানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমাজ প্রকৃত অর্থে বিপর্যয় থেকে উঠে দাঁড়ায় তখনই, যখন সেই সমাজের মানুষরা আবার নিরাপত্তা, স্থিতি ও স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরে পায়। আর এই অনুভূতি তৈরি হয় মানসিক সহায়তার মধ্য দিয়েই।

থামানো যাবে না, প্রস্তুতি নেওয়া যাবে ভূমিকম্প পৃথিবীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে এর ক্ষতি কমানো সম্ভব এবং এর বড় অংশই আমাদের হাতে। মানসম্মত ভবন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক সচেতনতা এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি এই চারটি স্তম্ভ যত শক্ত হবে, ভূমিকম্পের প্রভাব ততই কমবে। প্রকৃতির নিয়ম বদলানো যায় না, কিন্তু আমরা আমাদের জীবনযাপন ও শহর নির্মাণের পদ্ধতি বদলাতে পারি। ভূমিকম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি কোনো একদিনের কাজ নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা আর এই প্রচেষ্টাই ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একমাত্র উপায়।

https://www.deshrupantor.com/640932

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com