বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার মাজারে চিফ হুইপসহ হুইপবৃন্দের শ্রদ্ধা অর্থনৈতিক সুনামি! ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ! পেন্টাগনের তথ্য ফাঁস : ১০ দিনের বেশি যুদ্ধ চললে ফুরিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উদাসীনতা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তেহরান সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা খামেনির দাফনের স্থান নির্ধারণ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা চূড়ান্ত হলো লটারিতে

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠপ্রশাসন সাজাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিতর্ক এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এমনকি জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগেও ভরসা রাখা হয়েছে লটারির ওপর। ৬৪ জেলার এসপি ও ৪৯৫ ইউএনও ইতোমধ্যেই লটারিতে চূড়ান্ত হয়েছে; ডিসি নিয়োগও একই পদ্ধতিতে নির্ধারণের পথে। পরবর্তী ধাপে থানার ওসিদেরও লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। এ জন্য ইউনিটপ্রধানদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে সৎ, নিরপেক্ষ ও যোগ্য পরিদর্শকদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে বিগত তিন বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর এবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায়ই হলো লটারিভিত্তিক পদায়ন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ডিসি, এসপি ও ইউএনও রদবদলে বিতর্ক এড়াতে লটারিকেই কার্যকর পথ মনে করছে সরকার। গত ১০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে নির্বাচনের জন্য নানা ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে লটারির মাধ্যমে রদবদলের বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে লটারিতে কর্মকর্তাদের পদায়নের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

এ বিষয়ে সাবেক সচিব ড. আব্দুস সবুর আমাদের সময়কে বলেন, লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়াটি পুরাপুরি সঠিক নয়। কারণ এসিআর, পূর্ব অভিজ্ঞতা, সততা, নিষ্ঠা অনেক কিছু যাচাই করে ফিটলিস্ট করা হয়। এরপর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় কর্মকর্তাদের পদায়ন করে সরকার। এখন যে কোনো কর্মকর্তা যে কোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে শতভাগ যোগ্য নাও হতে পারেন। এটি বিবেচনা করবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যদিও সম্প্রতি পদায়নের পর দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে; এটি উচিত নয়। নির্মোহভাবে কর্মকর্তারা কাজ করবেন বলেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে অভিযোগ তুলে আস্থার সংকট তৈরি করা অনাকাক্সিক্ষত। হয়তো লটারির প্রসঙ্গটি এ কারণেই এসেছে। কিন্তু বাস্তবসম্মত চর্চা নয়।

তথ্যমতে, বিগত তিন জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশের তৎকালীন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জোরালো অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোও ওই তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের এবারের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছে। এ কারণেই এবার বেশ সতর্কতার সঙ্গে ডিসি, এসপি, এডিসি, ইউএনও এবং থানার ওসি নিয়োগ করতে চায় সরকার। শেষ পর্যন্ত এসব নিয়োগ বিতর্কমুক্ত করা এখন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনে নির্বাচনের জন্য যেসব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, সেটি প্রস্তুত করতে যা কিছু প্রয়োজনÑ সেটি দ্রুত শুরু করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের নিজ জেলা ও শ্বশুরবাড়ি চিহ্নিত করে ছক তৈরি করা হয়। স্বজনপ্রীতি এড়াতে ওই দুই এলাকা বাদ দিয়ে পদায়নের জন্য তালিকা করা হয়। তা ছাড়া ৩৫, ৩৬ ও ৩৮ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ইউএনও মনোনীত করা হয় লটারির ভিত্তিতে। মাঠ প্রশাসনের কাজের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে কর্মকর্তা বাছাইয়ে ভূমিকা রাখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে যেসব কর্মকর্তা অনেক দিন ধরে দায়িত্বে আছেন তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারিতেই ভরসা রাখছে সরকার। তবে স্থানভেদে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রশ্নে আপত্তি তোলা হয়েছিল কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক বদলির কাজটি লটারির মাধ্যমে করা যায় কি না, সেটি ভেবে দেখার বিষয়ে আলোচনা হলেও নিয়োগ সেভাবে হচ্ছে না। কোনো দিন লটারির মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসে পদায়ন হয় না, এখনও হচ্ছে না, হবে না। তবে আগের ডিসিদের প্রত্যাহার করে পর্যায়ক্রমে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে।

যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কমিটির হাতে দেওয়া হয়। ডিসি নিয়োগে সরাসরি লটারির বিষয়টি দৃশ্যমান না হলেও কর্মকর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, এটিও আসলে লটারির ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হয়েছে। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। কিছু ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে লটারিকেই উপযুক্ত মনে করা হয়।

এদিকে লটারির মাধ্যমে জেলাওয়ারি পদায়ন চূড়ান্ত করার কারণে গত সপ্তাহে ৬ জেলায় দেওয়া নতুন পুলিশ সুপারদের (এসপি) নিয়োগের যোগদান স্থগিত রাখা হয়। এখন এ ক্ষেত্রে লটারির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারি করে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্বাচন করা হয়। অতীতে এসপি হিসেবে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন-এমন কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচন করা হয়। শিগগির তাঁদের পদায়ন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঘোষণা করা হতে পারে নির্বাচনের তফসিল। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের এবার নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনে রাখা হবে না। এখন যাঁরা ডিসি হওয়ার যোগ্য, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ কর্মকর্তা ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (এআরও) দায়িত্বে ছিলেন। আবার যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন না, তাঁদের অনেকের ডিসি হওয়ার মতো যোগ্যতা নেই। কারণ শর্তানুযায়ী মাঠ প্রশাসনে দুই বছর দায়িত্ব পালন না করলে ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া যায় না। কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা শর্ত পূরণ করেছেন; তবে দায়িত্ব পালন ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে। এক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে ডিসি নিয়োগে পদায়নের পথে হাঁটে সরকার। নিয়োগের ক্ষেত্রে ২৫, ২৭, ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিতর্ক এলে সরিয়ে অন্যদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আরও বেশ কিছু কর্মকর্তা ফিট লিস্টে মনোনীত হয়ে আছেন। ডিসি পদে ‘ফিট লিস্ট’ বা যোগ্য তালিকা তাঁদের নিয়েই করা হবে, যেসব কর্মকর্তার মাঠ প্রশাসনে ন্যূনতম দুই বছর চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ছাড়া একজন কর্মকর্তার আগের পাঁচ বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের (এসিআর) রেকর্ড এবং চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হতে হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া তিনটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত, একতরফা ও পাতানো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন প্রার্থীরা। ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত। আর ২০২৪ সালের নির্বাচন পরিচিতি পেয়েছে ‘ডামি ভোট’ নামে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com