বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার মাজারে চিফ হুইপসহ হুইপবৃন্দের শ্রদ্ধা অর্থনৈতিক সুনামি! ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ! পেন্টাগনের তথ্য ফাঁস : ১০ দিনের বেশি যুদ্ধ চললে ফুরিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উদাসীনতা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তেহরান সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা খামেনির দাফনের স্থান নির্ধারণ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

বেবিচকের খামখেয়ালিতে থমকে আছে উন্নয়নকাজ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও মনিটরিং বিভাগের নানা অব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন (ক্রয়) পরিকল্পনা (ওয়ার্কস প্ল্যান) প্রায় ৬ মাসেও চূড়ান্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন খামখেয়ালিতে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও ক্রয় কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। সরকারি পিপিআর ক্রয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে (অর্র্থবছর ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬) বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা মানছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেবিচকের একাধিক কর্র্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে গত কয়েক মাসে তিনটি আলাদা নোটিশে সভা আহ্বান করা হলেও সভা করা যায়নি। গত ২৬ মে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ে পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত নোটিশে প্রথম সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় বিভিন্ন দপ্তর ও সব ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনীহায় বৈঠকটি হয়নি। এরপর গত ১ জুন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়ে জরুরি নোটিশ জারি এবং ৩ জুনের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর তথ্য পাঠালেও তা অদ্যাবধি বাস্তবায়ন করেনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ফলে পরবর্তী পরিকল্পনা প্রণয়ন থমকে যায়। এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। কারণ আইন অনুযায়ী সময়মতো মনিটরিং তথ্য না নেওয়া এবং সভা না করায় সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে নতুন সভার নোটিশ জারি করা হয়। এতে বিভিন্ন সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল ডিভিশনকে সেশনে ভাগ করে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও পাঁচ মাসেও এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দেশের সব বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও ক্রয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।

কর্মকর্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় টেন্ডার, ক্রয় ও উন্নয়ন কার্যক্রম আইনগতভাবে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। সরকারি ক্রয় আইন লঙ্ঘিত হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পনা বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিভিন্ন দপ্তর থেকে বারবার প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও যথাসময়ে সমন্বয় না হওয়া এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে একের পর এক নোটিশ দিয়েও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দেশের বিমানবন্দরের নির্মাণ, সংস্কার, ইএম কাজ, সিভিল কাজসহ সব উন্নয়ন প্রকল্প ঝুলে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেবিচক কর্মকর্তাদের এমন অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা বিমান চলাচল নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনাগ্রহ ও নিয়মভঙ্গের কারণে পুরো ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বছরের অর্ধেক পার হয়ে গেলেও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাতিল অবস্থায় পড়ে আছে, যা দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।

এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (অপারেশন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাইদ মেহ্বুব খান আমাদের সময়কে বলেন, খুব দ্রুতই চলতি বছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হবে। বিলম্বের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া ইতোমধ্য কিছু ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও ক্রয় কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি একটি অশনিসংকেত। এতে অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যাত্রীসেবার মান কমে যাওয়া, কার্গো পরিবহন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি অর্ডার কমে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে দেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টির মতো ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক সুবিধা না থাকায় কার্গো পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে যাবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন

ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে। আবার কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের অভাবে তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পণ্য রপ্তানিতে বিলম্বের কারণে উৎপাদন ব্যাহত এবং ভবিষ্যৎ রপ্তানি অর্ডার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

কাজী ওয়াহিদুল আলম আরও বলেন, অন্যদিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বিমানবন্দর না থাকার কারণে পর্যটকরা বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে নিরুৎসাহিত হবেন, যা পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। এ ছাড়া বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়বেন। তিনি বলেন, সার্বিক সমস্যার উত্তরণে বন্ধ থাকা সব উন্নয়ন ও ক্রয় কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে হবে; আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য পর্যটনবান্ধব আধুনিক বিমানবন্দর তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্প কারখানা স্থাপন এবং অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com