

ইরানের রাজধানী তেহরানে তেলের মজুত রাখার কয়েকটি কমপ্লেক্সে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। হামলার পর তেহরানে আকাশে ব্যাপক কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আইডিএফ বলেছে, এটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর ওপর চালানো একটি ‘উল্লেখযোগ্য হামলা’। তাদের দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এসব জ্বালানি ট্যাংক সরাসরি ও নিয়মিতভাবে সামরিক অবকাঠামো পরিচালনার কাজে ব্যবহার করে।
গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান তেহরানে তেল সংরক্ষণাগার ও রিফাইনারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো এসব জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো।
আনাদোলু এজেন্সির নিউজে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা রাজধানী তেহরানে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএনের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তেহরান রিফাইনারিতে হামলার জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের হাইফা রিফাইনারিতে আঘাত হেনেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওই হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ১৫০ জনের বেশি স্কুলছাত্রী এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
এর জবাবে ইরানও ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি ইসরায়েলের একাধিক শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।