

নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহ্যবাহী ‘ইসরায়েল ডে প্যারেডে’ অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্ট নেতা ও মেয়রপ্রার্থী জোহরান মামদানি। তার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকা পরিস্থিতির মধ্যেই মামদানি এবারের প্যারেড বর্জনের ঘোষণা দেন। আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক এই প্যারেড দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ও স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতির অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর অন্যতম আবাসস্থল নিউ ইর্য়ক সিটি। ফলে শহরটির রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এই প্যারেডের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবছর হাজারো মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কমিউনিটি সংগঠন এবং ধর্মীয় প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
চলতি মাসের শুরুতে জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, তিনি এবারের প্যারেডে অংশ নেবেন না। তবে তার এই অবস্থানের ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রাজনৈতিক ও নীতিগত কারণে তিনি এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।
মামদানির সাম্প্রতিক এই ঘোষণার পর শহরের কয়েকটি প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক এডামস প্রশাসনের আয়োজিত একটি ইহুদি ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র কার্যালয়ের ইহুদিবিদ্বেষ-বিরোধী দফতরের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোশে ডেভিস ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ১৯৬৪ সালে এই প্যারেড শুরু হওয়ার পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির প্রত্যেক মেয়র এতে অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, “ইসরায়েলের সঙ্গে নিউইয়র্কের যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, তা নিয়ে এই শহর সবসময় গর্ব করেছে। ফলে এই প্যারেডে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত শহরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সিনাগগ, ইহুদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে শহরে রাজনৈতিক বিভাজনও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে মামদানির সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে আয়োজক কমিটি দাবি করেছে, প্যারেড ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেনি। বরং তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে এবারের অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশে আরও বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। আয়োজকদের আশা, এ বছর প্যারেডে উপস্থিতির সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিউইয়র্ক সিটির আগামী মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং অ্যান্টিসেমিটিজম বিতর্ক এখন শহরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে এসেছেন জোহরান মামদানি।