

রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মারা গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজ শনিবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, মৃত্যুর পর লাশের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
গত ১২ জুন দুপুর পৌনে ২টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের উল্টো দিকে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় জিসান আহমেদ মন্টি নামে একজনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হয়েছে এজাহারে।
এ ছাড়া বাদশা ওরফে গুজা বাদশা (৪৮), গলদা বাদশা (৪৫), শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত (২৮), সোলাইমান খন্দকার (৪৫), ফারুক ওরফে চাচা ফারুক (৩৫), হেবেল (৩৫), মোল্লা জনি (৪২), ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা (৪৫), পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীবকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকেও আসামি করা হয়।
এজাহারে মাহমুদা খানম অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশ ও সহায়তায় এক অস্ত্রধারী ব্যক্তি তার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন।
মামলার পর গত শনিবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে ইমাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পলাশকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন ইমাম।
এর পর গত সোমবার মো. মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন ফেরদৌস ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে অবস্থান করছিলেন।