মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

সেপ্টেম্বরে ভয়ংকর হতে পারে ডেঙ্গু

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার
দেশে ফের ভয়ংকর হয়ে উঠছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুও।

বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে সংক্রমণের গতি বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৪ হাজার ৮৪৮ জন। মারা গেছে ৭১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আরো ভয়ংকর রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে নয় হাজার ২০৬ জন এবং আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে নয় হাজার ৫৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৪ জন।

ডেঙ্গু দীর্ঘদিন ঢাকাকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও এবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়। এদিন ১৮১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। খুলনা বিভাগে ১৫৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৬, বরিশালে ১০২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৭, রাজশাহীতে ৫৭, ময়মনসিংহে ৫১ এবং রংপুরে ১৩ জন ভর্তি হয়েছে।

চলতি বছরের মোট ২৪ হাজার ৮৪৮ রোগীর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার রোগী ১৭ হাজার ৯৬৭ জন।

সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্ত হয়েছে ছয় হাজার ৫১৫ জন। ফলে ডেঙ্গুর ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে চলতি বছরে এক হাজার ১৯৫ জন আক্রান্ত এবং তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু আগস্টের প্রথম ১১ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৩৬১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে চট্টগ্রাম নগরের ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৯৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতেই লার্ভা মিলেছে। ৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি সাধারণত বেশি থাকে। আগস্টে সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছরের ৭১ মৃত্যুর মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী। সবচেয়ে বেশি ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে। ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী আটজন এবং ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সাতজন মারা গেছেন। এ ছাড়া ১৫ বছর বা এর কম বয়সী অন্তত নয়জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে। শুধু জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের এবং জুনে ১৩ জনের। অর্থাৎ চলতি বছরের মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে গত দুই মাসে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরব্যথা, বমি, পেটে ব্যথা, দুর্বলতা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো তুলনামূলক কম। তবে জেলায় জেলায় চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com