

আপন ভাইকে ডেকে খুন করলেন আরেক ভাই। এমনই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে ভারতের নদিয়ায়। দেশটির পুলিশ এই নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভার বেজপাড়া এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভাইয়ের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরেক ভাইয়ের গলাকাটা দেহ। ঘটনার পর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না অভিযুক্তের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহত যুবকের নাম উত্তম প্রামাণিক (২২)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ উজ্জ্বলকে ফোন করেন তার বড় ভাই প্রবীণ প্রামাণিক। এরপর ৭ টার দিক দাদার বাড়ির উদ্দেশে বের হন। রাত ১০টা নাগাদ তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তারপরেও না ফেরায় উত্তমের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তার স্ত্রী মুক্তা।
মুক্তা দাবি করেন, তখন থেকেই মোবাইলের সুইচড অফ ছিল উত্তমের। এরপর আজ শুক্রবার সকালে তিনি যান উত্তমের দাদা প্রবীণের বাড়িতে। তার দাবি, সেখানে তিনি দেখতে পান, বাড়ি সুনসান। দরজায় ঝুলছে তালা। জানালার ফাঁক দিয়ে তিনি দেখতে পান ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন উত্তম।
এরপর শান্তিপুর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, উত্তমের আদি বাড়ি শান্তিপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মামদোপাড়ায়। দাদা প্রবীণ প্রামাণিক থাকেন পার্শ্ববর্তী বেজপাড়ায়। উত্তম ও প্রবীণ ছাড়াও আরও এক ভাই রয়েছে তাদের। পারিবারিক অশান্তির কারণে ভিটেছাড়া হতে হয় প্রবীণকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সেই আক্রোশে ভাইকে খুন করেছেন তিনি। উত্তমের গলায় গাঁথা ছিল একটি ছুরি। পুলিশ সেই ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
উজ্জ্বলের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ‘গতকাল রাতে আমার ভাসুর ফোন করে আমার স্বামীকে কাজের জন্য ডাকেন। উত্তম সাড়ে ৭টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তার পর রাত ১১টা থেকে ওর ফোন সুইচড অফ। সারা রাত বাড়ি না ফেরায় সকালে দাদার বাড়ি ছুটে যাই। গিয়ে দেখি সব শেষ। সম্পত্তির লোভেই আমার স্বামীকে ভাসুর খুন করেছেন।’
রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার কে কান্নান এ নিয়ে বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করে দেখছে।’