

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার পর থেকেই ফুটবল বিশ্ব মেতেছে উন্মাদনায়। এই মহাযজ্ঞের গ্রুপ সি-তে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কো। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের পারদ তুঙ্গে। একদিকে নেইমারের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া মিডিয়া সার্কাস, আর অন্যদিকে মরক্কোর অটল মনোযোগ; সব মিলিয়ে ম্যাচটি এখন ফুটবল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ব্রাজিল দলের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাম্বা জাদুর ছন্দ আর বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি নিজেদের নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের এই মঞ্চে এসে নেইমারকে নিয়ে যে বাড়তি হইচই এবং সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ, তা দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে কি না, তা নিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে। মাঠের বাইরের এই মনোযোগের বিচ্যুতি ব্রাজিলের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
অন্যদিকে মরক্কো যেন এক বিস্ময়ের নাম। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা এই দলটি প্রমাণ করেছে, তারা কেবল বড় নাম দেখে ভয় পায় না। মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি দলের খেলোয়াড়দের শিখিয়েছেন কীভাবে বাইরের সব গুজব আর আলোচনা এড়িয়ে শুধু নিজের খেলার ওপর পূর্ণ মনোযোগ রাখতে হয়।
নেইমারকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল শিবিরে চলা ‘সার্কাস’ থেকে তারা অনেক দূরে, বরং তাদের পুরো ফোকাস এখন মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের কৌশল কার্যকর করার দিকে।
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ফর্ম অবশ্য বেশ আশাব্যঞ্জক। বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় তাদের যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে দলটির রক্ষণভাগের কিছুটা দুর্বলতা গত কয়েক ম্যাচে ফুটে উঠেছে, যা মরক্কোর মতো প্রতি-আক্রমণে দক্ষ দলের বিরুদ্ধে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
মরক্কোর কথা বলতে গেলে, তারা এখন আফ্রিকান ফুটবলের নতুন শক্তির প্রতীক। গত ২৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড তাদের মানসিক শক্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাদের রক্ষণভাগ কতটা জমাট, তা সারা বিশ্ব দেখেছে আগের বড় টুর্নামেন্টগুলোতে। ব্রাজিলের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আটকে দেওয়ার জন্য তারা হয়তো দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে খেলার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে।
উভয় দলের কোচই যুদ্ধের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন নিজেদের মতো করে। কার্লো আনচেলত্তি মরক্কোর শারীরিক শক্তির প্রশংসা করলেও নিজের দলের টেকনিক্যাল সক্ষমতার ওপর ভরসা রাখছেন। অন্যদিকে মরক্কোর কোচ ওয়াহবি মনে করছেন, এই ম্যাচে তাদের হারানোর কিছু নেই বরং বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সেরা সুযোগ এটি। দুই দলের ৪-২-৩-১ ফরমেশনের মুখোমুখি লড়াই ফুটবলীয় কৌশলের এক দারুণ প্রদর্শনী উপহার দিতে পারে।
এই ম্যাচটি কেবল গ্রুপ পর্বের তিনটি পয়েন্ট অর্জনের লড়াই নয়, বরং টুর্নামেন্টের টোন সেট করারও একটি সুযোগ। গ্রুপ সি-তে এগিয়ে থাকতে হলে আজ দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে। ড্রয়ের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, বিশেষ করে যদি মরক্কো শুরু থেকে ব্রাজিলকে চাপে রাখতে সফল হয়। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে দুই দলই হয়তো কিছুটা রয়েসয়ে এগোবে।