বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার মাজারে চিফ হুইপসহ হুইপবৃন্দের শ্রদ্ধা অর্থনৈতিক সুনামি! ব্যবসা-বাণিজ্য তছনছ! পেন্টাগনের তথ্য ফাঁস : ১০ দিনের বেশি যুদ্ধ চললে ফুরিয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের উদাসীনতা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তেহরান সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা খামেনির দাফনের স্থান নির্ধারণ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসের উদ্যোগ

রাজনীতি বর্জন নয় গুণগত মানোন্নয়ন জরুরি

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার

সমাজে দুঃখজনক একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে রাজনীতি মানেই দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতা আর অর্থের অনৈতিক খেলা। যখনই ‘রাজনীতি’ শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন সাধারণ জনগণের মনে দুর্নীতি, পেশিশক্তি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার নেতিবাচক চিত্র ভেসে ওঠে। ধারণাটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের শিক্ষিত ও বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। কিন্তু এই নেতিবাচকতা কি বর্তমান রাজনীতির স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, না গভীর চক্রান্তের ফসল? বিশেষ করে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কথা! অনেকের মতে, রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি আসলে সাধারণ জনগণকে রাজনীতিবিমুখ করার একটি অসাধারণ কৌশল। আর এই কৌশল কার্যকরে সফল হলে, তা দেশকে এক গভীর অন্ধকার গহ্বরে টেনে নিয়ে যেতে পারে। রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতা দখল বা ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে দেখার অভ্যাসটি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিককালে এর মাত্রা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এক শ্রেণির লোক দ্রুত অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছেন, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন এবং জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করছেন। এই ক্ষুদ্র অংশের কর্মকাণ্ডই পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষিত করে তোলে। সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক আলোচনায় যখন ক্রমাগত এ চিত্রটি প্রাধান্য পায় তখন সৎ, আদর্শবাদী এবং দেশপ্রেমিক মানুষেরা স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত ও হতাশ হন। শেষে রাজনীতিকে ঘৃণা করতে শুরু করেন। তখন দেশের মেরুদণ্ড তরুণ প্রজন্মকে এমন ধারণা দেওয়া যে, রাজনীতি একটি নোংরা স্থান, যেখানে সৎ মানুষের প্রবেশ নিষেধ!

বাস্তবতা হলো, এ পর্যন্ত আমাদের যা কিছু অর্জন, তার প্রায় সবটাই রাজনীতির মাধ্যমে অর্জিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, যা একটি জাতির আত্মপরিচয়, তা ছিল রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেলাম। সেটি ছিল স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ফসল। এমনকি সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রতিটি সংগ্রাম, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা সবকিছুর পেছনেই রয়েছে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির সুদূরপ্রসারী ভূমিকা। রাজনীতিকে অস্বীকার করা মানে, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের মূল ভিত্তিকে অস্বীকার করা। রাজনীতি কখনোই অন্যায়ের হাতিয়ার ছিল না। এটি জনগণের দাবি আদায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। ক্ষমতালোভী ও আত্মকেন্দ্রিক কিছু রাজনীতিবিদ যখন ক্ষমতা ও অর্থকে নিজের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেন, তখন তারা রাজনীতির মহৎ উদ্দেশ্যকে বিকৃত করে ফেলেন। গুটিকয়েক মানুষের দুর্নীতি বা বিকৃতিকে পুরো ব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ভুল প্রচারণার অংশ। বস্তুত, দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি কেবল কিছু ‘খারাপ’ রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত আকাক্সক্ষা থেকে উদ্ভূত নয়, বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংকটে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এই কাঠামোগত সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক দলেই স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া বা নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন হয় না। বরং আনুগত্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবাদী কর্মীরা শুধু প্রান্তিক অবস্থানে থেকে যান। আর আত্ম-স্বার্থসর্বস্ব ব্যক্তিরা দ্রুত ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে সক্ষম হন। যখন একটি দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশই দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে, তখন বাইরের তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হয়। এর মাধ্যমে সেই অপশক্তি নিশ্চিত করে যে, নেতৃত্ব শুধু তাদের হাতেই থাকবে যারা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই সহায়ক হবে। নির্বাচনী রাজনীতিতে ক্রমে বেড়ে চলা অর্থের প্রভাব আরেকটি বড় অন্তরায়। বর্তমান সময়ে জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তা একজন আদর্শবাদী, সাধারণ আয়ের মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শের চেয়ে প্রার্থীর অর্থবিত্তের দিকেই বেশি নজর দেয়। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই হয়ে ওঠে ‘ধনীর খেলা’। যারা কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচিত হন, তারা জনগণের সেবা না করে নিজেদের বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে আনার দিকেই মনোযোগী হন। এভাবেই রাজনীতির মহৎ উদ্দেশ্য বিসর্জন দিয়ে এটি ‘জাদুর কাঠি’তে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়নের ধারণা বদ্ধমূল হতে থাকে। তাহলে প্রশ্ন আসে তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ জনগণের কাছে রাজনীতিকে খারাপ প্রমাণ করে কার লাভ? এটি আসলে একটি সুচিন্তিত অপচেষ্টা। রাজনীতি যখন সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে যায়, যখন জনগণ রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন তোলা বা জবাবদিহি চাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে তখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করে ক্ষমতাধর দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠী। একটি দুর্বল এবং জনবিমুখ রাজনৈতিক ব্যবস্থা সেই অপশক্তিকে সুযোগ করে দেয়, যারা দেশকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। এটি আসলে সেই অপশক্তির চাল, যা দেশকে এক গভীর অন্ধকার গহ্বরে টানছে যে গহ্বরে জবাবদিহি নেই, আদর্শের মূল্য নেই। এই নীরবতা দুর্নীতিপরায়ণ এলিট শ্রেণির জন্য সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

এ প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার তার লেখায় যথার্থই বলেছেন যে, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই এবং দলগুলো ‘হাইড অ্যান্ড সিকের’ (লুকোচুরি) আশ্রয় নিয়ে থাকে’। এর পাশাপাশি অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য অনেকের কাছে রাজনীতি হয়ে উঠেছে ‘জাদুর কাঠি’ অর্থাৎ রাতারাতি ধনী হওয়ার এক অব্যর্থ উপায়। এই অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর এবং আমাদের রাজনীতির ভেতরে ঘুণ ধরার বিষয়টি প্রমাণ করে। তবে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ, যদিও সত্য, প্রায়ই রাজনৈতিক অঙ্গনের বৃহৎ একটি অংশকে উপেক্ষা করে। এটি সেই হাজারো তৃণমূল কর্মীকে অস্বীকার করে, যারা নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সেবা করে চলেছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সচল রেখেছেন। সব রাজনৈতিক দলই যে ‘লুকোচুরি’ বা অর্থ উপার্জনের ‘জাদুর কাঠি’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এ উপসংহারটি সামগ্রিক নয়। উপরন্তু দলগুলোর এমন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোই হলো জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা সংগঠিত করার অপরিহার্য কাঠামো। এদের অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরও বিশৃঙ্খল ও দুর্বল ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়বে, যা আসলে দুর্নীতিপরায়ণ অপশক্তির জন্য আরও সহজ পথ তৈরি করে দেবে। বিশেষজ্ঞরা রাজনীতিতে যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি তোলেন, সেই সংস্কার শেষ পর্যন্ত দলীয় কাঠামোর মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে তাদের বাতিল করে নয়, বরং পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে। যদি তার কথা মেনেই নিতে হয় যে, রাজনীতিতে অস্বচ্ছতা রয়েছে, তাহলে কি এর অর্থ এই দাঁড়াল, দেশে কোনো রাজনৈতিক দল থাকার দরকার নেই? প্রশ্নটা এখানেই। দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রবল। যদি চিকিৎসা ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কারণে আমরা হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে না দেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ না করে দেই তবে কেন গুটিকয়েক রাজনীতিবিদের অপকর্মের কারণে, রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা হবে? আসলে, বদিউল আলম মজুমদারের পর্যবেক্ষণটি আমাদের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, অবসানের বার্তা দেয় না। চ্যালেঞ্জটি হলো কীভাবে আমরা রাজনীতিকে ‘জাদুর কাঠি’ থেকে ‘জনগণের সেবা’র হাতিয়ারে পরিণত করব।

অস্বচ্ছতা দূর করার জন্য আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা হলে এই অস্বচ্ছতা আরও বাড়বে, কারণ প্রতিবাদ বা পরিবর্তনের কোনো মাধ্যম থাকবে না। এই নেতিবাচক ধারণাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য পরিবেশন এবং কিছু গণমাধ্যমের দ্বিমুখী ভূমিকা রয়েছে। যদিও গণমাধ্যম দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রায়ই দেখা যায়, শুধু চাঞ্চল্যকর এবং নেতিবাচক দিকগুলোই ফলাও করে প্রচারিত হয়। অন্যদিকে তৃণমূলের নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক উদ্যোগ, জনগণের জন্য কাজ করা সৎ জনপ্রতিনিধিদের ছোট ছোট অর্জন বা দলগুলোর ভেতরের ইতিবাচক নীতিগত আলোচনাগুলো সেভাবে গুরুত্ব পায় না। এই পক্ষপাতিত্ব একটি উদ্দেশ্যমূলক কৌশলের অংশ হতে পারে, যেখানে রাজনীতির সমস্ত গৌরবময় দিকগুলো আড়াল করে শুধু তার কালিমালিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হয়। যখন জনগণ শুধু অনিয়ম দেখে এবং ইতিবাচকতা অদৃশ্য থাকে, তখন তাদের রাজনীতিবিমুখ হওয়া স্বাভাবিক। এই বিমুখতা নিশ্চিত করে যে, রাজনৈতিক ময়দান যেন নীতি-আদর্শের পরিবর্তে শুধু ক্ষমতার লোভে পরিচালিত হয়।

পুরো আলোচনার মানে আসলে কী দাঁড়াল? একটি অজ্ঞ, বোধহীন, অসাড় জাতিগোষ্ঠী তৈরি করে লাভ কোন পক্ষের? সহজ উত্তর হলো, এর লাভ শুধু সেই গোষ্ঠীর, যারা দুর্বল গণতন্ত্র এবং দুর্বল জনসচেতনতাকে পুঁজি করে সম্পদ ও ক্ষমতা লুটে নিতে চায়। এরা এমন এক জাতি তৈরি করতে চায়, যারা দেশের ইতিহাস ভুলে গেছে, যারা আদর্শে বিশ্বাস করে না এবং যারা শুধু ব্যক্তিগত লাভের সন্ধানে ছুটছে। একটি অসাড় জাতি কখনোই প্রশ্ন করে না, প্রতিবাদ করে না। ফলে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এবং দুর্নীতিবাজদের জন্য পথ সহজ হয়ে যায়। আমাদের এই অপচেষ্টা রুখতে হলে তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে যে, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কিছু মুখ নয়। রাজনীতি হলো প্রতিটি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণ, রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তোলার অধিকার এবং সামাজিক পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা। তরুণ সমাজের কাছে রাজনীতিকে বিষিয়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। এই চক্রান্তকে ব্যর্থ করতে হলে, সাধারণ জনগণ ও বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনভাবে রাজনীতির মূল ধারায় ফিরে আসতে হবে। রাজনীতিকে শুধু পেশিশক্তির হাতে ছেড়ে না দিয়ে নীতি, আদর্শ এবং সততার চর্চার মাধ্যমে এটিকে আবার পরিশুদ্ধ করে তুলতে হবে। রাজনীতি হচ্ছে একটি জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। এই মাধ্যমটি যদি ভুল হাতে চলে যায়, তবে শুধু একটি বিশেষ দল নয়, পুরো জাতির ভবিষ্যৎ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই রাজনীতিকে বর্জন নয়, বরং এর গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের সত্যিকারের অর্জন সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com