সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার

১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নতীকরণের দাবিতে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এসময় হাসপাতালে আগত অসংখ্য রোগীকে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে এই কর্মবিরতী। তবে জরুরি বিভাগে স্বল্প পরিসরে চলেছে তাদের সেবাদান।

সকালে সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান কক্ষে স্বল্প পরিসরে চলছে। বহির্বিভাগের রেডিওলোজি বিভাগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে রোগীদের বিনামূল্যে দেয়া ঔষধ সরবারহ ভবনের গেট (মেডিসিন স্টোর)। সেখানেই ভুক্তভোগী রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভিড়।

সেখানে অপেক্ষারত নাসিমা আক্তার (৪৫) নামে এক রোগী জানান, তিনি সকাল ৯টায় মেডিসিন চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। চিকিৎসক কিছু ঔষধ লিখে দিয়েছেন। তবে দেড় ঘণ্টা ধরে মেডিসিন স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোন ওষুধ পাইনি।

বহির্বিভাগের রেডিওলোজি বিভাগের বারান্দায় ফ্লোরে শুয়ে থাকা ফোরকান উদ্দিন নামে এক রোগীর ছেলে মো. আসলাম জানান, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকরা তার বাবার একটি এক্স-রে করাতে বলায় সকাল ৭টার দিকে তাকে রেডিওলোজি বিভাগে নিয়ে এসেছেন। তবে সকাল থেকে এখানে কাউকে দেখতে পাননি। এক্স-রে রুমটি কখন খুলবে সেটিও তাদের অজানা।

জামাল উদ্দিন নামে এক রোগী বলেন, আমি সকাল ৮টার সময় হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখিয়েছি। তবে এক্স-রে করতে এসে দেখি, সব বন্ধ। পরে জানতে পারলাম, যারা দায়িত্বে আছে তারা আন্দোলন করছে। কখন পরীক্ষা করে চিকিৎসক দেখাব জানি না। এসময় হাসপাতাল জুড়ে এমন কয়েকশ রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।

কর্মবিরতি করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা সমবেত হন বহির্বিভাগে। এসময় বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইলটি জনপ্রশসনে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে বারংবার উপস্থাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন, সংগ্রাম, দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি, জনপ্রশাসন বিধি শাখার সমস্ত চাহিদা পূরন করা সত্বেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানাবিধ উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় অবিরতভাবে কোয়াবি দেওয়ার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি করছে।

তিনি বলেন, অথচ এর আগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। এজন্য আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে ৩ তারিখ অর্ধদিবস ও ৪ তারিখ থেকে কমপ্লিট শাটডাউন পালন করা হবে।

এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৮ দফা দাবিতে প্রতিকী শাট ডাউন কর্মসূচি পালন করেন নার্সরা।

বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশনের ব্যানার হাতে কয়েকশ নার্স জড় হন হাসপাতালটির প্রশাসনিক গেটে। এময় ৮ দফার বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আশ্বাস প্রদানের পর দীর্ঘ ১৪ মাসেও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাগত সংস্কার ও বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় তা অতিসত্বর বাস্তবায়নের দাবিতে এবং নার্সিং মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে ভিন্ন অধিদপ্তরের সাথে একীভূত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে তারা এ আন্দোলনে নেমেছেন।

তাদের এ আন্দোলনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ও বাংলাদেশ মিডিওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) যৌথভাবে সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। আগামী পহেলা ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দাবিদাওয়া আদায় না হলে, ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে দাবিদাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত কমপ্লিট শাট-ডাউন পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com