

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরও ৫ আসনে কারচুপির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৯টি আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ৯ জন প্রার্থী পৃথকভাবে আবেদন করেছেন।
এসব মামলার মধ্যে চারটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, আর দুটির ওপর শুনানির জন্য রোববার (১ মার্চ) দিন ধার্য রয়েছে। বাকি তিনটি আবেদন এখনো কার্যতালিকাভুক্ত হয়নি।
এর আগে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে করা ‘নির্বাচনী’ আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এ বেঞ্চে অন্য দেওয়ানি এখতিয়ারের পাশাপাশি দেখা যায়, ‘২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক “নির্বাচনী” আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হইবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।’
যে চারটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হলো—শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪ আসন।
আবেদনকারী চার প্রার্থী হলেন—শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের মো. আবদুর রহিম সরকার।
আদালতে জামায়াতে ইসলামীর তিন প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির। বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাহেমীন চৌধুরী।
শেরপুর-১ আসনের ফলাফল বাতিল এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিতে করা আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্ট আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। এর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীসহ বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারি করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবদুর রহিম সরকারের করা তিনটি আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। এসব আবেদনের ওপর আগামী ৩ মে ও ১০ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪ আসনের আবেদন নিয়ে আদালতে যাই। আদালত শুনানি গ্রহণ করেন। আমরা বেশ কিছু বিষয় উপস্থাপন করি। এর মধ্যে একটি হলো ফলাফল শিট। ওই ফলাফল শিটের নিচে পোলিং এজেন্টের নাম থাকলেও নির্বাচন কমিশনের কোনো সিল নেই। আবার আরেকটি ফলাফল শিট ভিন্ন রকম। একটি ফলাফল শিট দুই রকম হতে পারে না। এটাই ছিল প্রথম বিষয়।
দ্বিতীয়ত, ফলাফল শিটে একাধিক জায়গায় পেন্সিল দিয়ে লেখা রয়েছে। অথচ এগুলো প্রিন্টেড থাকার কথা। এছাড়া কেন্দ্র নম্বর ও কেন্দ্রের নাম উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও তা নেই। এসব বিষয় দেখার পর আদালত সন্তুষ্ট হন এবং সব আবেদন গ্রহণ করে নোটিশ জারি করেন।
এদিকে রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর এবং পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের পৃথক আবেদন শুনানির জন্য রোববারের কার্যতালিকায় রয়েছে। তবে মোট নয়টি আবেদনের মধ্যে বাকি তিনটি আবেদন কারা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।