রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন

হাসিনাসহ ৪৯ জনের বিচারের সুপারিশ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারী ও সহায়তাকারীদের অপরাধ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আদলে একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠনের মাধ্যমে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অপরাধ, কর্তব্যে অবহেলা, অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহায়তার প্রমাণ পেয়ে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁদের আগামীতে সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্ব বা নিয়োগ না দেওয়ার জন্যও প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামের পরিবর্তে বাহিনীটির নাম বাংলাদেশ বর্ডার রাইফেলস (বিবিআর) অথবা রাইফেলস শব্দটি রেখে অন্য কোনো নাম রাখার সুপারিশ করেছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। রবিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। আর এ ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী দেশ ভারতের জড়িত থাকারও প্রমাণ মিলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নিজেরাই এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত ছিল। এ ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীবৃন্দ সবাই ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করেছে। হত্যাকারীদের সমর্থনে মিছিল করা থেকে শুরু করে তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করা এবং পালানোর কাজে সহায়তা করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী এহেন কাজের জন্য দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হলো। প্রতিবেদনে যেসব ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন সংস্থার কাছে গচ্ছিত আছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে মিছিলে নেতৃত্বদানকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক দুই সেনাপ্রধানসহ সামরিক বাহিনীর সাবেক ১২ কর্মকর্তা, সাবেক দুই আইজিপিসহ পুলিশের পাঁচজন, ডিজিএফআই চারজন, এনএসআইয়ের দুজন, র‌্যাবের চারজন ও বিডিআরের তিনজন কর্মকর্তা এবং ১৬ জন রাজনীতিক ও তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্য পালনে অবহেলা, অনিয়ম, ষড়যন্ত্র এবং ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহায়তার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে বিডিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে।

গতকাল সোমবার কমিশনের একজন সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, তারা প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করেছেন তা বাস্তবায়ন করবে সরকার। আমরা প্রতিবেদনে কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও দাখিল করেছি। এখন প্রতিবেদন প্রকাশ করার দায়িত্ব তাদের।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বৈদেশিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। বিদেশি ভাষার কথা শুনতে পাওয়া, বিদেশি ব্যক্তিবর্গের অ্যাম্বুলেন্সযোগে পলায়ন, তোরাব আলীর কল লিস্টে বিদেশি কলের উপস্থিতি, ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূরের সঙ্গে তার স্ত্রীর সর্বশেষ টেলিফোনে ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দারের বক্তব্য ইত্যাদি প্রমাণ করে যে এ ঘটনায় বিদেশি সংশ্লিষ্টতা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে এসব সফল হলে (যার অনেকটাই সফল হয়েছে) তার সুবিধাভোগী হতো ভারত। অপরদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন ভারতীয় গবেষক তাদের গবেষণাপত্রে নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এর ঘটনার পর শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ বলেছেন যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পিলখানা আক্রমণ করলে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করত এবং আর ফিরে যেত না। বিএসএফের সঙ্গেও ভারতে আশ্রয়ের জন্য অনেক বিডিআর সদস্যের যোগোযোগ হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ হতে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত ৮২৭ জন ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জনের বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ওই তারিখের মধ্যে ১ হাজার ২২১ জনের বহির্গমনের তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট থাকলেও তাদের মধ্যে ৫৭ জনের আগমনের কোনো তথ্য তাদের নিকট নেই। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে দেখার জন্যও সুপারিশ করেছে কমিশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও বিডিআর হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার সিংহভাগ দায়ভার সেনা নেতৃত্বের ওপর বর্তালেও সার্বিকভাবে এ ব্যর্থতার দায় পুরো সেনাবাহিনীর ওপরই বর্তায়। সশস্ত্র বাহিনীকে ভবিষ্যতে এরূপ ব্যর্থতার দায়ভার থেকে বাঁচানোর জন্য কমিশন সব রকম ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের ওপর ভিত্তি করে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকারকে দৃঢপ্রতিজ্ঞ হওয়ার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১/১১-এর সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডের একটি ফল হলো বিডিআর হত্যাকাণ্ড। সুতরাং যেভাবেই হোক সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক ক্ষমতা হরণের সর্বনাশা উচ্চাশা থেকে দূরে রাখতে হবে।

প্রতিবেদনে সব গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব ও কর্তব্য পুনর্বণ্টন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সকল গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি অনুরূপ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

কমিশন জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এনএসআইকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় লোকবল ও প্রযুক্তি দিয়ে ঢেলে সাজাতে সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া এর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। পাশাপাশি বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা ও এনএসআইয়ের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি গড়ে তুলতেও প্রস্তাব করেছে।

প্রতিবেদনে ডিজিএফআই সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পূর্বে, ঘটনার সময় এবং ঘটনার পরে দেশের অন্যতম শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নেতিবাচক। সংস্থাটি এ হত্যাকাণ্ডের আগাম কোনো তথ্য দিতে পারেনি বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও করেনি। ঘটনার সময় সংস্থাটির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেনা অভিযান পরিচালনার বিরুদ্ধে কাজ করেছিল। ঘটনার পর তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তী সময়ে তাপস হত্যাচেষ্টা ঘটনায় কিছু নিরপরাধ অফিসারকে ফাঁসিয়ে দিয়ে ঘোরতর অন্যায় করেছেন। এসব অন্যায় কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা ছাড়াও সংস্থা হিসেবে ডিজিএফআইয়ের কিছু সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে।

কমিশন তাদের সুপারিশে ডিজিএফআইকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয় কমিটির অধীনে ন্যস্ত করা, এর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করা, রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী অফিসারদেরকে ডিজিএফআইয়ে পদায়ন বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটির বেশকিছু কর্মকর্তা সংস্থাটিকে তাদের পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের আনুকূল্য পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাহিনীসমূহে নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিজিএফআইয়ের মধ্যে গোয়েন্দা তথা বিনিময়ের সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে এসবিকে রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহের সক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে তাদের মধ্যে থেকে উসকানিদাতা, প্ররোচনাকারী এবং ষড়যন্ত্রকারী বা তাদের সমর্থন দানকারীদের চিহ্নিত করার সক্ষমতা গড়ে তোলা, এসবির দলীয় রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করা, প্রশিক্ষণকে আধুনিকায়ন করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতির এ রকম ক্রান্তিলগ্নে পুলিশকে একান্তভাবেই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। পুলিশের আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সবাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হত্যাকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী পেছনে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করলেও পুলিশ এলাকা কর্ডন করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেনি। পুলিশকে জাতির এ রকম ক্রান্তিকালে স্ব-প্রণোদিত হয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের ময়দানে সঠিক সময়ে সঠিক আদেশ সব সময় পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে একজন সেনা কমান্ডার একান্ত কর্তব্য পরিস্থিতির বিচারে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় সেনা নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে এর ব্যত্যয় ঘটেছে এবং সেনা নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছেন। সেনা নেতৃত্ব গড়ে তোলার সময় প্রশিক্ষণ ও কর্মস্থলে কাজের প্রতিটি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। ঘটনার সময় বিভিন্ন ডিভিশনের জিওসিগণ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিলেন। জাতীয় দুর্যোগে জিওসিদের উচিত ছিল পরিস্থিতি সম্বন্ধে নিজ উদ্যোগে অবগত হওয়া এবং নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সেনাপ্রধানকে প্রয়োজনীয় উপদেশ ও সেনা অভিযান পরিচালনার পক্ষে সমর্থন প্রদান করা।

কমিশনের প্রতিবেদনে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের প্রতিটি পর্যায়ে নৈতিক-অনৈতিক এবং ন্যায়-অন্যায় আদেশের পার্থক্য নিরূপণকরত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবরের সত্যতা যাচাই ছাড়াই কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রচারণার মাধ্যমে বিদ্রোহকে উসকে দিয়েছে এবং হত্যাকারীদেরকে হত্যাকাণ্ডে উৎসাহিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ এলাকা কর্ডন করা ও অপরাধীর পলায়নে বাধা দিতে পারদর্শী। র?্যাবের আভিযানিক সক্ষমতাও উৎকৃষ্ট মানের। র?্যাব-২ ও র?্যাব-৩ এর অগ্রগামী দলসমূহ যে সময় পিলখানার যথাক্রমে ৩ ও ৪ নং গেটে এ পৌঁছেছিল, সে সময় আদেশের অপেক্ষা না করে আক্রমণ করলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সম্ভবত ঘটতই না।

প্রতিবেদনে বিজিবিতে অফিসার সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করে বলা হয়, ইতোমধ্যে প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে এবং বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বিজিবি করা হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে বিজিবির ব্যাটালিয়নসমূহে অফিসারের সংখ্যা এখনও অপ্রতুল। ফলে অফিসার ও সৈনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও তেমন কোনো উন্নতি সাধিত হয়নি।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে বিজিবি সদস্যদের নিয়মিত প্রেষণা প্রদানের মাধ্যমে কমান্ড চ্যানেলের প্রতি অনুগত রাখার ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। বিজিবির সাংগঠনিক কাঠামোতে এখন গার্ডস সিকিউরিটি ব্যুরো সংযোজন করা হয়েছে। এদের কার্যক্রম কোম্পানি পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যে কোনো জাতীয় সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা ডেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকট না হলেও নিয়মিতভাবে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা আয়োজনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানকে সভাপতি করে আট সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কমিশনকে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ঘটনার প্রকৃতি ও স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে বলা হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তোলে। বিদ্রোহের পর সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর বিডিআর নাম বদলে করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। পরিবর্তন করা হয় ইউনিফর্মও।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com