রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

ঢাবিতে ধাওয়া খেয়ে পালালেন আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক আ ক ম জামাল

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও আওয়ামীপন্থী নীল দলের আলোচিত শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের আওয়ামীপন্থী নীল দলের শিক্ষক অধ্যাপক জিনাত হুদা।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার আ ক ম জামাল ও জিনাত হুদাসহ কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ যান। পরে শিক্ষার্থীরা এ খবরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে জড়ো হন। দুপুর একটার দিকে ভবন থেকে বের হতেই ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে আ ক ম জামালকে ধাওয়া দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আ ক ম জামাল উদ্দিন বারবার ‘পুলিশকে কল করো’ বলছেন। আর পেছনে এবি জোবায়ের তাকে ধরার চেষ্টা করছেন। পরে তিনি দৌঁড়ে ভবনের নিচে রাস্তায় চলে যান। এ সময় এবি জুবায়েরাও তার পেছনে পেছনে ছুটেন। পরে তাদের সঙ্গে থাকা প্রাইভেট কারে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তারা দুজন।

এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের লিখেন, ‘স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশ ফায়ার দিতে হবে’ বলা আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার শিক্ষক আ কম জামাল, নীল দলের পোস্টেড নেতা জিনাত হুদাসহ ৫ জন ফ্যাসিস্টের দোসর শিক্ষক আজকে ক্যাম্পাসে এসে গোপন মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে পাকড়াও করে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আনফরচুনেটলি আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় কুলাঙ্গারগুলো!

তিনি আরও লেখেন, এরা চিহ্নিত খুনিদের দোসর। এদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা এদের ক্লাস-পরীক্ষা সব বয়কট করেছে। তারপরও এরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সাহস কিভাবে পায়! প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। খুনিদের সাথে কোনো সহাবস্থানের সুযোগ নেই। সবগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে হবে শীঘ্রই।

অন্যদিকে গোপন মিটিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক জিনাত হুদা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে একটা স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য আমরা উপাচার্য স্যারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। স্যার ব্যস্ত থাকায় আমরা টিচার্স লাউঞ্জে চা খেতে যাই। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আ ক ম জামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমি সে সময় ক্যাম্পাসে ছিলাম না। তবে এর আগে আ ক ম জামাল স্যার ক্যাম্পাসে এলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। পরে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করি যে, তিনি আর আসবেন না। আমরা জামাল স্যারকেও বলেছিলাম না আসতে। তারপরও তিনি এসেছেন।

গোপন বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য, গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ‘জামায়াত-শিবির’ আখ্যা দেওয়া এবং মামলার হুমকিধমকি দেওয়ার অভিযোগে আ ক ম জামাল ও জিনাত হুদাকে ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বয়কট করেছিলেন নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com