

পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই যুদ্ধ কোনো পক্ষের জন্যই শুভফল বয়ে আনবে না। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই দেশ দুটিকে সংযত হওয়ার এবং বিষয়টি অনুধাবন করার আহ্বান জানিয়েছে।
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
সীমান্ত সংঘাত ও পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার এই যুদ্ধ একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, এ ধরনের সংঘাত কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনার জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তালেবান কর্তৃপক্ষের ওপর তাদের ধৈর্য শেষ হয়ে গেছে এবং পাকিস্তান কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
ওআইসি বৈঠকের প্রাপ্তি সম্পর্কে ড. খলিলুর রহমান জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেছে। ওআইসিভুক্ত দেশগুলো কেবল সমর্থনই নয়, বরং বাংলাদেশের হয়ে প্রচারণা চালানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ মূলত সাইপ্রাসের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওআইসি বৈঠকে আমরা ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আইনের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানিয়েছি। আমরা স্পষ্ট বলেছি, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিকালীন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা উভয়েই বিশ্বশান্তি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।