

শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটটি যুদ্ধ থামাতে পেরেছেন—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, শুল্ক নীতিই তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্ত্র।
বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্ক’ তার সবচেয়ে প্রিয় শব্দ। এই নীতির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক আমূল বদলে গেছে।
ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে একজনও বিদেশি অবৈধভাবে প্রবেশ করতে পারেননি। তার ভাষায়, ‘অনেকে বলেছিল এটা অসম্ভব। কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি।’
ট্রাম্প দাবি করেন, মাত্র ১০ মাসে তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক হুমকি ‘ধ্বংস’, গাজার যুদ্ধে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ‘৩ হাজার বছরের মধ্যে প্রথম শান্তি’ আনার কথাও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি পুনরুদ্ধার করেছি। এই সাফল্যের পেছনে শুল্ক নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে।’
তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক রয়েছে বলে মনে করেন সমালোচকেরা। ট্রাম্পের শুল্কনীতি অনেক ক্ষেত্রে আমদানিপণ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি করেছে।
ভাষণে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। তার মতে, আমদানি শুল্ক এড়াতে বহু বহুজাতিক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমোবাইল খাতে ‘নজিরবিহীন অগ্রগতি’ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক বাজেট আইনের ফলে বকশিশ, অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ওপর নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। এতে একটি পরিবার বছরে ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে বলে তার দাবি।
অভিবাসন ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, সীমান্ত বন্ধ করতে কংগ্রেসের নতুন আইন প্রয়োজন হয়নি। ‘আমাদের প্রয়োজন ছিল একজন নতুন প্রেসিডেন্ট,’—বলেন তিনি।
ভাষণে ট্রাম্প মার্কিন সেনাদের জন্য এককালীন ১ হাজার ৭৭৬ ডলার ভাতা দেওয়ার ঘোষণাও দেন। বড়দিনের আগেই ১৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সেনা এই অর্থ পাবেন বলে জানান তিনি। এ সুবিধাকেও তিনি তার শুল্কনীতির সুফল হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, কোসোভো-সার্বিয়া, ইসরায়েল-ইরান, মিসর-ইথিওপিয়া ও রুয়ান্ডা-কঙ্গোসহ কয়েকটি সংঘাত নিরসনে তার ভূমিকা ছিল।
তবে ভারত-পাকিস্তান বিষয়ে ট্রাম্পের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই দ্বিপক্ষীয়ভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।