

অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের ‘এক পদ, এক বেতন’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। একই সঙ্গে তাদের সম্মানজনক জীবনযাপন ও টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘ডিফেন্স কলোনি’ স্থাপনের কাজ শুরুরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড (বিএসবি) কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
এদিন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাশরুর হোসাইন ভূইয়া।
পরিদর্শনকালে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য সরকারের ‘এক পদ, এক বেতন’ নীতি বাস্তবায়নের কথা জানান। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে সমপদের জন্য সমান বেতন নীতি কার্যকরের বিষয়টি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মিলনমেলা ও সহায়তার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি জেলার সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। এজন্য প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া চিকিৎসা সেবার সম্প্রসারণে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক ও তাদের পরিবারের চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ৬১টি জেলায় ওষুধ সংগ্রহের লক্ষ্যে মেডিক্যাল স্টোরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সংগ্রহ বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য সম্মানজনক জীবনযাপন ও টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘ডিফেন্স কলোনি’ গড়ে তোলার জন্য কার্যক্রম গ্রহণের কথা জানান ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা এবং দিনাজপুর জেলায় এই প্রকল্পের জন্য জমি নির্ধারিত রয়েছে। এসব জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সেবায় নিবেদিত প্রাক্তন সৈনিকদের অর্জিত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের সম্মানজনক শেষ বিদায় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে যে কোনো অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্য সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডকে অধিকতর সম্পৃক্ত ও সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় করার জন্য প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান করেছি।’
পরিদর্শনকালে সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।