

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, শুরুতে নির্বাচনে প্রশাসনের নিরাপেক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলেও ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দলের শতাধিক প্রার্থী স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে কেন্দ্রে অবহিত করেছেন। কেন্দ্র বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে; যদিও কোথাও কোথাও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রার্থীসহ স্থানীয় ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে নিজেদের সংশয়ের কথা জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আমাদের সময়কে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের আমলে প্রশাসন যেভাবে একটি দলকে জয়ী করতে উঠেপড়ে লেগেছিল, তেমনিভাবে এবারও প্রশাসন একটি দলের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের বাইরে কোস্টগার্ড ও বিজিবিও একটি দলের পক্ষে বেশকিছু আসনে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে খবর পাচ্ছি। এ বিষয়ে বিএনপির স্পষ্ট কথা, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে যদি প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ দেখা যায়, তা হলে স্থানীয় জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। প্রশাসনকে আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি- অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কা আছে; তবে এই শঙ্কা আমাদের আরও সাহস জুগিয়েছে। এবারের নির্বাচন ভোট রক্ষারও নির্বাচন। একপাক্ষিক নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।
দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনা বা জরিপ, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং মাঠের বাস্তবতার নিরিখে বিএনপি জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছে। সারা দেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত বলে দলটির মত।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহদী আমিন বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। সুতরাং যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের প্রতি অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিয়ে শঙ্কিত, এ বিষয়টি একটি সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং রুখতে হবে মন্তব্য করে ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আমাদের সময়কে বলেন, জনগণ ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। আমরা বুঝতে পারছি, বিভিন্ন মহল থেকে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে পাস করানোর জন্য চিন্তাভাবনা করছে। এর মধ্যে ঢাকায় ও সারা দেশে কয়েকটি সিট জোরজবরদস্তি করে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ছিনতাই করার চেষ্টা করবে।
নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্তদের যে বার্তা দিল বিএনপি : প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, ভোটকেন্দ্রের প্রধান ও পোলিং এজেন্টদের করণীয় চূড়ান্ত করে নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনী কাজে জড়িতদের দলগতভাবে করণীয় নির্ধারণ করে ১৫টি নির্দেশনা বার্তা দেওয়া হয়েছেÑ যেন নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কাজে তাদের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি না হতে হয়।
সূত্রমতে, প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও ভোটকেন্দ্রের প্রধান এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হবে। এলাকায় সব মহলে গ্রহণযোগ্য ও নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার থাকবে। ঝুঁকিযুক্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে অনীহা থাকলে তাকে দায়িত্ব না দেওয়া, যারা সার্বক্ষণিক সময়ের জন্য ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট হতে অনিচ্ছুক, তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা। বিশেষ প্রয়োজন হলে অন্য কাজে সম্পৃক্ত করা যাবে। এ ছাড়াও বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে স্থাপন করা হচ্ছে মনিটরিং সেল। যেখান থেকে সারাদেশের নির্বাচনী চিত্র দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ আমাদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।