বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন

জীবনে কোনো কিছুর জন্য কোনো আক্ষেপ নাই : তারেক

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার

আম ও মধুর ব্যবসা, এই জীবনটাই উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। তিনি পেশায় একজন আইটি ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু তার মা-বাবা তাকে সেই ব্যবসা করতে দেননি বলেও জানান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. তারেক রহমান বলেন, তারা (মা-বাবা) চান আমি সরকারি চাকরি করি। সেখান থেকে সরকারি চাকরির চেষ্টা করে বারবার ভাইবা দিয়েও ব্যার্থ হচ্ছিলাম। একদিন সবাই স্মৃতিতে স্মরণ করবে, শিক্ষক নিয়োগে ৮৪ শতাংশ কোটা, রেলওয়েতে ৪০ শতাংশ পৌষ্য বা পারিবারিক কোটা, আর ১ম ও ২য় শ্রেণিতে কোটা ছিল।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জায়গায় বারবার আশাহত হয়েই এই ব্যবস্থা হতে মুক্তির জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম কোটা সংস্কারের। আমরা কোটা সংস্কারের লড়াই করলেও, অনেকে এটাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শত্রুতা পর্যায়ে নিয়ে যায়। শেখ হাসিনার সরকারও এই আন্দোলনকে রাজাকারদের আন্দোলন বলে বলতে থাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য আমরা কিছুটা কোটা রেখেই, নারীদের জন্য কিছুটা, প্রতিবন্ধী, ও পাহাড়ের অনগ্রসর বন্ধুদের জন্য মিলায়ে ১৫ শতাংম কোটার প্রস্তাব করেছিলাম।

তিনি বলেন, আমাদের লড়াই ছিল, ন্যায় বিচারের জন্য।

সেখান হতে কোটা পুরোটায় বাতিল হয়ে যায়। এখানে শেখ হাসিনার জিদ একটা বড় ক্ষতি করে। পুরো কোটা সিস্টেম ফল করে। আমি এখনো মনে করি, অনগ্রসর জেলার জন্য এগিয়ে নিতে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ রাখতেই হবে। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাটে আমি অনেকবার গিয়েছি, সেখানে মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে জীবন যাপন করে। তাদের কিছুটা এগিয়ে তো দিতেই হবে। এগিয়ে না দিলেও জনসংখ্যার অনুপাত হিসাবে তারা তাদের অঞ্চলের রিক্রুটমেন্টের একটা অধিকার রাখে।

আমজনতা দলের সদস্য সচিব বলেন, কোটার বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক বিন্যাসের মাধ্যমে সমাজের অনগ্রসর এলাকা ও গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ রাখতেই হবে। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা পুরপুরি বাতিল আমরা কখনোই চাইনি। এখানে গ্রামগঞ্জের মেধাবী বোনদের একটা অগ্রাধিকার থাকাই উচিত। কিন্তু সেই কোটা কি ৬০ শতাংশ নারী কোটা আর ২০ শতাংশ পৌষ্য কোটা? একটা খাতে ৬০ শতাংশ নারী কোটা ছিল, সেখানে এক ধাক্কায় ০ শতাংশ করা কি উচিত হয়েছে? আন্দোলনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পায় নাই, সেই সুযোগ দেয়া হয় নাই। আন্দোলনের হাত থেকে বাঁচতে, রাগে ক্ষোভে সব কোটা বাতিল করা হয়েছে।

নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০১৮ এর কোটা আন্দোলনের পর, বাখরাবাদ গ্যাস কম্পানিতে ভাইবা দেই, আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। দুইবার ভাইবা দেই এস আই নিয়োগে, ৩ বার ভ্যারিফিকেশনের পর বাদ দেয়া হয়। এভাবে কত গুলো পরীক্ষায় শেষ সময়ে বাতিল হয়েছি মনেও নাই। কৃষি ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি থামাতে গিয়ে মারাত্মক হামলার শিকার হয়েছিলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধ করতে গিয়ে পুরো ২ ঘন্টা আটকে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিকিউরিটি আমাকে নির্যাতন করেছিল। এই পরীক্ষা গুলো পুনরায় নিতে বাধ্য আমি করেছিলাম।

ব্যবসায়ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন জানিয়ে তারেক বলেন, এসব একটিভিজম করতে করতে আর চাকরিতে ঢুকার সুযোগ পেলাম না। আর ক্ষুধা আর দারিদ্র হতে মুক্তি পেতে তখন হতেই শুরু করি আম ব্যবসা। পেটের ক্ষুধা যে কি, আমরা হারে হারে টের পেয়েছি। খর কুটার মত অনেক ব্যাবসা আঁকড়ে ধরেছি, সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেয়া হয় নি। পলাশীতে আমার দোকান ছিল, তখন দুবার আমার দোকান ভাংচুর করল। আগারগাঁও পাকা মার্কেটে দীর্ঘদিন ব্যাবসা করেছি। প্রশাসনের লোক দিয়ে পর্যন্ত আমার দোকান মাটির সাথে মিশে দেয়া হয়েছে। এসব কারণে অনলাইনে আম বিক্রিই আমার ভার্চুয়াল ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মের আম, আর শীতের মধু। এই মিলে আমার আম মধুর ব্যবসা।

মো. তারেক রহমান বলেন, আমার জীবনে কোনো কিছুর জন্য কোনো আক্ষেপ নাই। খুব স্বাদ ছিল হাজার ৪০-এর মত বেতন পেলে কোন ভাবে জীবনটা চালিয়ে নেব। আলহামদুলিল্লাহ, আম মধুর ব্যাবসায় শুধু পরিবার চলে না, আমার রাজনীতিতেও ব্যায় হয় এই টাকা। ২ দিন আগে নির্বচানে ডাব্বা মারলাম। আমার বা আমার পরিবারের একটু খারাপও লাগে নাই। আল্লাহ আমাকে ঐ জায়গার জন্য যোগ্য মনে করেন নাই, আমি ভাল করি নাই। নেতৃত্ব আল্লাহ হতে আসেন, ২০১৮ থেকে আল্লাহ আমাকে যেখানে যেখানে উপযুক্ত মনে করেছেন, আমি নেতৃত্ব দিয়েছি। হয়ত আমি সংসদের উপযুক্ত নই, তাই সেখানে আমার যাওয়া হল না। আমি আমার এই জীবনটাই উপভোগ করি, আল্লাহ ভরসা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com