

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনেই প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে পদটিকে ‘টাকা আয়ের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার এবং একটি বিশেষ ‘সিন্ডিকেট’ পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের সূত্র ধরে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ‘রাজসাক্ষী’ বা ‘অ্যাপ্রুভার’ বানানো এবং এর বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের সন্দেহ। তিনি দাবি করেন, তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট শুরু থেকেই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে আসছিল।
সুলতান মাহমুদের অন্যতম বড় অভিযোগটি ছিল সাভারের আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলা নিয়ে। তার দাবি অনুযায়ী, গত বছর নভেম্বরে ওই মামলার অন্যতম আসামি এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী ভারী একটি ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি তিনি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তীকালে ওই এসআইকে রাজসাক্ষী করে মামলা থেকে অব্যাহতির সুযোগ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনকে ‘রাজসাক্ষী’ করা এবং রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার পেছনেও অনৈতিক লেনদেন ছিল। সুলতান মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, ভিডিও ফুটেজে গুলি করার নির্দেশনা দেওয়ার প্রমাণ থাকার পরও কেন কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে।
বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ব্যক্তিগত হিংসা চরিতার্থ করার জন্য যদি কেউ এ ধরনের কথা বলেন, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ট্রাইব্যুনালে যা কিছু হয়েছে তা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত। অভিযুক্ত অন্য প্রসিকিউটর তামীমও এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।