

রমজান মাসের প্রথম দশক পার হয়ে গেছে। ১১ রোজা পালন করছি আমরা। এই মাসকে বলা হয় রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান এমন এক মাস, যার শুরুতে রহমত, মাঝে মাগফেরাত এবং শেষে জাহান্নাম থেকে মুক্তি।’ (ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭)
রমজান পুরোটাই রহমতের মাস। তাহলে কেন এই ভাগ? কেন শুরুতে রহমত, মাঝে মাগফেরাত আর শেষে নাজাত? ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, এই ভাগ আলংকারিক। এর মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে– রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিনেরই আলাদা গুরুত্ব আছে। আল্লাহর রহমত মাসব্যাপী বর্ষিত হয়। কিন্তু সেই রহমতে সিক্ত হয়ে গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে হয়। শেষ পর্যন্ত সিয়াম সাধনা করে নাজাত লাভ করতে হয়।
তিরমিজির এক হাদিসে আছে, ‘প্রতি রাতেই জাহান্নাম থেকে অসংখ্য মানুষকে মুক্ত করা হয় রমজানে।’ শেষ দশকে এই মুক্তির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাই শেষ দশককে নাজাতের দশক বলা হয়। লাইলাতুল কদর এই দশকে আছে। এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাত পায় এবং ইবাদত করে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
প্রথম দশকে যারা রহমতে সিক্ত হয়, তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। দ্বিতীয় দশকে যাদের ছোটখাটো গুনাহ আছে, তারা মাগফেরাত পায়। আর শেষ দশকে সবচেয়ে বেশি মানুষ নাজাত পায়। কিন্তু মানুষের মন কঠিন। অনেকের হৃদয় গলতে সময় লাগে। আল্লাহ কাউকে বঞ্চিত করেন না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুযোগ দেন।
আমাদের দায়িত্ব হলো রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো। মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, জুয়া, মাদক– এসব থেকে দূরে থাকা। রোজা শুধু পেট খালি রাখা নয়; হাত-পা, চোখ-কান, জিহ্বা– সবকিছুকে পাপ থেকে বিরত রাখা। হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও তার ওপর আমল ছাড়তে পারে না, তার পানাহার ত্যাগ করার প্রয়োজন আল্লাহর কাছে নেই।’ (বুখারি)
রমজানে চারদিকে ক্ষমার ঘোষণা। ইফতারের সময় ক্ষমা, তারাবির সময় ক্ষমা, সাহ্রির সময় ক্ষমা। লাইলাতুল কদরে ক্ষমার সাগর। শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ। জাহান্নামের দরজা বন্ধ। আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষক ঘোষণা করছেন– ‘ওহে কল্যাণ-অন্বেষী! নেকির পথে অগ্রসর হও। ওহে অকল্যাণের পথিক! নিবৃত্ত হও।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২)
এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। রমজানের বাকি দিনগুলো সচেতনভাবে কাটাতে হবে। শেষে আফসোস নয়। আজ থেকেই সতর্ক হতে হবে। হাদিসে আছে, ‘ওই ব্যক্তি হতভাগা, যে রমজান পেল কিন্তু গুনাহ মাফ হলো না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৭৪৫১)
রমজান আমাদের শেখায় ত্যাগ, ধৈর্য, সংযম। এই শিক্ষা নিয়ে আমরা যেন মুত্তাকি বান্দা হয়ে উঠতে পারি। রমজানের শেষে ঈদ আসবে মহাখুশির বার্তা নিয়ে। কারণ আমরা পাপমুক্ত হয়ে ফিরেছি।
মুফতি মুঈনুল ইসলাম: খতিব, বিয়াম ফাউন্ডেশন-সংলগ্ন মসজিদ, ঢাকা, অধ্যক্ষ, জামিআ ইসলামিয়া ঢাকা, চেয়ারম্যান, শরিয়াহ কমিটি, ইবিএল পিএলসি