

ওয়াদা রক্ষা করা আল্লাহ তাআলারও বিশেষ গুণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯)
ওয়াদা রক্ষার ব্যাপারে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) বিরল নজির স্থাপন করে গেছেন। তাঁর চিরশত্রুরা পর্যন্ত তাঁকে ওয়াদার ব্যাপারে নিরাপদ মনে করত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিশ্রুতি রক্ষার কয়েকটি নজির
১. বদরের যুদ্ধের ঘটনা।
২. হুদাইবিয়া সন্ধির সময় মুশরিকদের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছিল যে কুরাইশের কোনো ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে চলে এলে তাকে কুরাইশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। হুদাইবিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনের পরপরই আবু বাসির উতবা ইবনে আসিদ মক্কার কারাগার থেকে পলায়ন করে মদিনায় চলে এলেন।
(বুখারি, হাদিস : ২৭৩১)
৩. আবদুল্লাহ ইবনে আবিল হামসা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.)-এর নবুয়ত লাভের আগের ঘটনা। আমি তাঁর কাছ থেকে একটা জিনিস কিনে কিছু দাম বাকি রেখে এই বলে চলে গেলাম যে আমি অবশিষ্ট মূল্য নিয়ে এখানে এসে পৌঁছিয়ে দেব। পরে আমি অঙ্গীকার ভুলে গেলাম। তিন দিন পর আমার এ ওয়াদার কথা মনে পড়ল। আমি অবশিষ্ট মূল্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম, তিনি সেখানেই আছেন। তিনি বলেলেন, ‘ওহে যুবক! তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ। আমি তিন দিন যাবৎ এখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।’
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯৬)
অঙ্গীকার ভঙ্গ করা মুনাফেকির লক্ষণ
নবীজি (সা.) ওয়াদা ভঙ্গ করাকে মুনাফেকির লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে নির্ভেজাল মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোনো একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফেকির একটি স্বভাব থেকে যায়। তা হলো আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে, কথা বললে মিথ্যা বলে, অঙ্গীকার করলে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং ঝগড়ার সময় গালাগাল করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪)
অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর প্রতি লানত
ওয়াদা ভঙ্গকারীর প্রতি আল্লাহর লানত বর্ষিত হতে থাকে এবং তার অন্তর শক্ত করে দেওয়া হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘(আর বনি ইসরাঈলের) ওয়াদা ভঙ্গের কারণে আমি তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তর শক্ত করে দিয়েছি।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১৩)
কিয়ামতের দিন অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পতাকা থাকবে
নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে পতাকা থাকবে। তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী তা উঁচু করা হবে। সাবধান! সাধারণ মানুষের নেতার চেয়ে (যদি সে বিশ্বাসঘাতকতা করে) বড় বিশ্বাসঘাতক আর কেউ নেই।’
(মুসলিম, হাদিস : ১৭৩৮)
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অসম্ভব হলে করণীয়
যেকোনো ধর্মে ওয়াদা পালনের গুরুত্ব আছে। ইসলামে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। ওয়াদা রক্ষা করার সামর্থ্য থাকলে এবং তা পালন করতে ধর্মীয় কোনো বাধা না থাকলে যেকোনো মূল্যে তা রক্ষা করা ওয়াজিব। বিশেষ কোনো যৌক্তিক কারণে ওয়াদা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়লে, যাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তাকে বিনয়ের সঙ্গে নিজের অপারগতা জানিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।
লেখক : খতিব, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ফার্মগেট, ঢাকা