

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আজ বুধবার (৪ মার্চ) চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলা যদি আরও ১০ দিন অব্যাহত থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।
গত শুক্রবার বিকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর ঠিক তিন ঘণ্টা পর তিনি ইরানে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়িসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি এবং অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করার উচ্চমূল্য সম্পর্কে অবহিত করেছে। তবে ট্রাম্প এই সতর্কতা উড়িয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ‘অফুরন্ত’ এবং এই সরবরাহ দিয়ে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালানো সম্ভব। সোমবার তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে এই হামলা ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট প্রকট হবে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে, অস্ত্রের ঘাটতি থাকলে ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ আগে থেকেই কমে এসেছে। গত বছরের ইরান-সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের ২৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল। এ ছাড়া জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ইন্টারসেপ্টরও ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে জেডিএএম বা স্মার্ট বোমা তৈরির কিট এবং উন্নত মিসাইল শিল্ডের সংকটের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
ইরানে হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা)। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করতে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৬৫ লাখ ডলার।
পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্পের কথামতো এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ ২১০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ২৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা) গিয়ে ঠেকতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ৩৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ফেলেছে।