

ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এর পরইনতুন নেতার অধীনে আজ সোমবার প্রথম দফায় ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, এই হামলাটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৩০তম পর্যায়ের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এটিই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রথম সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে মোজতবা খামেনির শাসনামলের শুরুতেই আঞ্চলিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
এদিকে ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা এবং বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে মধ্যাঞ্চলীয় শহর রিশোন লেজিয়ন-এ একটি বাধাগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক নারী সামান্য আহত হয়েছেন।
এই হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন যে, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চান। দেশটিতে পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত কেউ ক্ষমতায় এলে তা তিনি মেনে নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিলেও এটি তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সেই ব্যক্তি মোজতবা খামেনি হওয়া তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
‘খামেনির ছেলে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়,’ এই সপ্তাহের শুরুতেই বলেছিলেন ট্রাম্প।তিনি পরে এও বলেছেন যে, তার অনুমোদন ছাড়া যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন সে ‘দীর্ঘদিন টিকতে পারবে না।’
ইসরায়েলও খামেনির দ্বিতীয় ছেলেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিশ্চিত করার আগেই এক সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তাতে তারা বলেছে, প্রয়াত আয়াতুল্লাহর যে কোনো উত্তরসূরির বিরুদ্ধেই তারা অভিযান চালিয়ে যাবে।
কে এই মোজতবা খামেনি?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন মোজতবা খামেনি।এরপর ১৯৯৯ সালে তিনি ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে তিনি বেশিরভাগ সময়েই নিজেকে আড়ালে রেখে আসছিলেন। তিনি কখনো কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারও দেননি। তার খুব অল্প সংখ্যক ছবি ও ভিডিওই বাইরে এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলাতেই আলী খামেনির মৃত্যু হয় বলে প্রথমে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আলী খামেনির মৃত্যুুর খবর নিশ্চিত করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।