

হিমালয়কন্যা নেপালের রাজনীতিতে গত কয়েক দশকে অনেক চড়াই-উতরাই দেখা গেছে। রাজতন্ত্রের পতন থেকে শুরু করে মাওবাদী আন্দোলন- সবই দেখেছে এ দেশ। কিন্তু ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে যা ঘটল, তাকে এক কথায় ‘রাজনৈতিক সুনামি’ বললেও কম বলা হয়। এই ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজন ৩৫ বছর বয়সী যুবক, যার চোখে সব সময় কালো চশমা আর কণ্ঠে ছিল শোষণের বিরুদ্ধে র্যাপ সংগীত। তিনি বলেন্দ্র শাহ, দক্ষিণ এশিয়ায় যাকে এখন সবাই চেনেন ‘বলেন শাহ’ নামে। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন জামিউর রহমান
সুরের মঞ্চ থেকে রাজনীতির ময়দান
বলেন শাহর পরিচয় কোনো রাজনৈতিক পরিবারে নয়। নেপালের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি প্রথমে পরিচিতি পান একজন তুখোড় র্যাপার হিসেবে। ‘নেপ-হপ’ বা নেপালি হিপ-হপ জগতে তিনি ছিলেন প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। তার গানে উঠে আসত কাঠমান্ডুর ধুলোবালি, বেকারত্ব আর দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের কথা। মঞ্চে মাইক হাতে যখন তিনি গাইতেন, তখন হাজার হাজার তরুণ সেই সুরের মধ্য দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ খুঁজে পেত। কিন্তু তখনও কেউ ভাবেনি, এই মঞ্চের শিল্পী একদিন নেপালের সিংহাসনে বসবেন।
মেয়রের চেয়ার
২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যখন তিনি প্রথাগত বড় দলগুলোকে ধূলিসাৎ করে দিলেন, তখনই বোঝা গিয়েছিল নেপাল এক নতুন পথ খুঁজছে। একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার নগর পরিকল্পনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি দ্রুতই তাকে জননন্দিত করে তোলে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ৬১,৭৬৭ ভোট পেয়ে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। তিনি নেপালি কংগ্রেস (৩৮,৩৪১ ভোট) এবং ইউএমএল (৩৮,১১৭ ভোট) প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দেন। এই চমকপ্রদ ফল মূলত রাজধানীর মানুষের প্রতিষ্ঠানবিরোধী ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শাহ শহরের ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিনের ময়লা ফেলার সমস্যা সমাধানে তিনি বেসরকারি কোম্পানি এবং নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সাথে মিলে রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করেন।
অলি-দেউবা যুগের ইতি
২০২৬ সালের নির্বাচনে বলেন শাহর নেতৃত্বাধীন ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP) যে অভাবনীয় জয় ছিনিয়ে আনল, তা মূলত ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ঝাপা-৫ আসনে নেপালের রাজনীতির চাণক্যখ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বালেন প্রমাণ করেছেন, মানুষ এখন আর চটকদার বক্তৃতায় ভুলতে রাজি নয়। র্যাপার হিসেবে তিনি যে শোষণের বিরুদ্ধে গেয়েছিলেন, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সেই শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার ম্যান্ডেট এখন তার হাতে।
নতুন এক নেপালের স্বপ্ন
২০২৫ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরই নেপালের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ওলি সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ করার পর এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই সিদ্ধান্তটি তরুণদের মধ্যে দুর্নীতি, বৈষম্য এবং সুযোগের অভাব নিয়ে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। দ্রুত তা এক বিশাল বিক্ষোভে রূপ নেয়। এই সংকটের মুখে ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই আন্দোলন নেপালের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুরোপুরি বদলে দেয়। তরুণ ভোটাররা এই নির্বাচনকে পুরনো ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এক বড় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। বালেন শাহর এই রূপান্তর কেবল একজন ব্যক্তির জয় নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি বড় বার্তা। তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বা বিপুল অর্থ ছাড়াও কেবল সততা, কাজ আর তারুণ্যের জোয়ারে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব। কালো চশমা আর স্যুট পরা এই নতুন প্রধানমন্ত্রী এখন নেপালের কোটি মানুষের স্বপ্নের সারথি।
ঝাপা-৫-এর মহারণ
নেপালের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে যদি কোনো একটি কেন্দ্র নিয়ে সারাবিশ্বের নজর আটকে থাকে, তবে সেটি ছিল ঝাপা-৫। আসনটি কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং এটি ছিল নেপালের রাজনীতির ‘চাণক্য’ ও চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির অভেদ্য দুর্গ। কিন্তু সেই দুর্গে হানা দিয়ে তরুণ তুর্কি বালেন শাহ যা দেখালেন, তা নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ‘জায়ান্ট কিলিং’ হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন
ঝাপা-৫ আসনটি কয়েক দশক ধরে অলির ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। যেখানে অলির বিজয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র, সেখানে ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই ছিল সাহসের চূড়ান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও শুরুতে ভেবেছিলেন, বলেন হয়তো সম্মানজনক ভোট পাবেন, কিন্তু জয়? সেটা ছিল কল্পনাতীত। তবে ভোটের বাক্স খুলতেই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে।
অভিজ্ঞতার বিপরীতে তারুণ্যের তেজ
একদিকে ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ কেপি ওলি, যার হাতে ছিল বিশাল দলীয় ক্যাডার বাহিনী এবং কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, বলেন শাহর হাতিয়ার ছিল কেবল একদল স্বেচ্ছাসেবক তরুণ আর সামাজিক মাধ্যম। বলেন তার প্রচারণায় অলির অতীত ব্যর্থতা, মদেশি জনগণের প্রতি বৈষম্য এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। তরুণ ভোটাররা, বলেনের ‘পরিবর্তনের গানে’ উদ্বুদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
গণনায় যখন ইতিহাস গড়া হলো
ভোট গণনার শুরু থেকেই বলেন শাহ লিড নিতে শুরু করেন। প্রতিটি রাউন্ডে যখন অলির ভোট কমতে শুরু করল, তখন ঝাপার রাজপথে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, বলেন শাহ পেয়েছেন ৬৮,৩৪৮ ভোট, যেখানে প্রবীণ নেতা ওলি আটকে গেছেন মাত্র ১৮,৭৩৪ ভোটে। প্রায় ৫০ হাজার ভোটের এই বিশাল ব্যবধান কেবল অলির পরাজয় ছিল না, বরং এটি ছিল নেপালের প্রথাগত ‘পারিবারিক ও সিন্ডিকেট’ রাজনীতির প্রতি জনগণের চরম অনাস্থার প্রতীক।
এই জয়ের তাৎপর্য
ঝাপা-৫-এর এই জয় বলেন শাহকে কেবল একজন সংসদ সদস্য বানায়নি, তাকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। এই লড়াই প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ক্ষোভ যখন গণজোয়ারে রূপ নেয়, তখন কোনো ‘দুর্গ’ বা ‘ব্যক্তিত্ব’ অপরাজেয় থাকে না। অলির মতো হেভিওয়েট নেতার পরাজয় নেপালের বাকি পুরনো রাজনীতিবিদদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে।
স্মার্টফোন যখন লড়াইয়ের অস্ত্র
নেপালের ২০২৬ সালের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন ছিল না; এটি ছিল মূলত ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের এক নীরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী বিদ্রোহ। যে তরুণরা আগে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখত, তারাই এবার রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম- সবখানে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথাগত রাজনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। বলেন শাহর এই বিজয় আসলে নেপালের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের এক বিস্ফোরণ।
হ্যাশট্যাগ থেকে ভোটকেন্দ্র
বলেন শাহর প্রচারণার প্রাণকেন্দ্র ছিল ফেসবুক, টিকটক আর ইনস্টাগ্রাম। যেখানে বড় দলগুলো পুরনো কায়দায় বিশাল জনসভা আর মাইকিংয়ে ব্যস্ত ছিল, সেখানে বলেনের সমর্থক তরুণরা মিম (গবসব), ছোট ভিডিও এবং ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছে। নেপালের কয়েক লাখ নতুন ভোটার, যারা প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন, তারা আর দাদামশাইদের আমলের স্লোগান শুনতে রাজি ছিলেন না। তারা চেয়েছিলেন আধুনিকতা, প্রযুক্তি আর স্বচ্ছতা- যা বলেন শাহর ব্যক্তিত্বে ফুটে উঠেছে।
২০২৫-এর গণ-আন্দোলন
২০২৬-এর এই ব্যালট বিপ্লবের বীজ বোনা হয়েছিল মূলত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। তখন বেকারত্ব আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেপালের রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার তরুণ। সেই আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দলের ঝাণ্ডা ছিল না, ছিল কেবল ‘পরিবর্তন’ আর ‘সুশাসন’-এর দাবি। বলেন শাহ সেই ক্ষুব্ধ তরুণদের কাছে হয়ে উঠলেন এক ভরসার প্রতীক। আন্দোলনের সেই শক্তিকেই তিনি সুনিপুণভাবে ভোটে রূপান্তর করেছেন।
ডিজিটাল ড্রাইভ ও ভলান্টিয়ারিজম
বলেন শাহর বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে এক বিশাল ‘ভলান্টিয়ার ফোর্স’। কোনো টাকা বা বিরিয়ানির বিনিময়ে নয়, বরং নিজের দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তরুণরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছিলেন কেন এবার পরিবর্তন দরকার। স্মার্টফোন হাতে নিয়ে প্রতিটি তরুণ হয়ে উঠেছিলেন এক-একজন সাংবাদিক ও প্রচারক। ভুয়া খবর (Fake News) ছড়ানো থেকে শুরু করে প্রথাগত নেতাদের ভুল তথ্য সংশোধনে এই জেন-জি বাহিনী ছিল বলেনের সবচেয়ে বড় ঢাল।
প্রবীণদের প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা
এই বিপ্লব প্রমাণ করেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এখন আর কেবল ‘পারিবারিক ইতিহাস’ বা ‘জেল খাটা’ দিয়ে ভোট পাওয়া সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্ম এখন চায় পারফরম্যান্স এবং ডেটা। বলেন শাহর প্রতিটি ভাষণে যখন উন্নয়নের গাণিতিক হিসাব এবং প্রযুক্তির ব্যবহার উঠে আসত, তখন তরুণরা তার মাঝে নিজেদের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেত। জেন-জি নেপালকে শিখিয়েছে- রাজনীতি কেবল বয়স্কদের খেলা নয়, বরং এটি তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মঞ্চ।
ইঞ্জিনিয়ারিং মাইন্ডসেট
রাজনীতিবিদ বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে চটজলদি প্রতিশ্রুতি আর আবেগপ্রবণ বক্তৃতার ছবি। কিন্তু বলেন শাহ নেপালের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানা- ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মাইন্ডসেট’। বলেন শাহর প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে ছিল ডেটা বা তথ্য। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালে তিনি যখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে হাত দেন, তখন তিনি কেবল নির্দেশ দেননি; বরং নিজে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিলেন বর্জ্যরে পরিমাণ ও রিসাইক্লিংয়ের গাণিতিক হিসাব মেলাতে। তার এই ‘টেকনোক্র্যাট’ ইমেজ সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি করেছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে যে, দেশ চালাতে কেবল জাদুকরী কথা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর গাণিতিক সমাধান প্রয়োজন।
র্যাপার থেকে রাষ্ট্রপ্রধান যেভাবে
নেপালের রাজনীতিতে বলেন শাহর উত্থান কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল কয়েক দশকের পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই। র্যাপার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই যুবক আজ নেপালের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তার এই যাত্রার পর্যায়গুলো ছিল নিম্নরূপ :
শুরুটা ছিল প্রতিবাদের গানে
বলেন্দ্র শাহর প্রথম পরিচয় ছিল ‘বলেন’ নামে একজন র্যাপার হিসেবে। নেপালের জনপ্রিয় হিপ-হপ শো ‘Raw Barz’-এর মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। তার গানগুলো কেবল বিনোদন ছিল না; সেখানে থাকত বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সিস্টেমের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীক্ষè প্রতিবাদ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আন্দোলনের সময় দেশটির তরুণদের মধ্যে বলেনের জনপ্রিয়তা বাড়ে। ওই আন্দোলন সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার কারণে শুরু হলেও মূলত দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে এটি দানা বেঁধেছিল। সেই আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো বিক্ষোভকারী। তৎকালীন নেপালি নেতা কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বলেন শাহ বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে কথা বলেন এবং এক পর্যায়ে তিনি কেপি অলিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন।
জনপ্রিয় গান
বলেন শাহর বেশ কিছু গান তরুণদের মধ্যে আলোচিত হয়। তার গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরা। এর মধ্যে রয়েছে ‘নেপালি হো’। এই গানটিতে তিনি জাতীয় পরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং তরুণদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। গানটি প্রকাশের পর নেপালের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ‘বলিদান’ নামের আরেকটি জনপ্রিয় গান রয়েছে তার। এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাধর্মী গান। এখানে তিনি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনা করেছেন।
‘মেরো দেশ’ গানের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছেন তিনি। এটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এসব গানের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে কেবল একজন শিল্পী নন, বরং সামাজিক সচেতনতার অন্যতম কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি পান নেপালে
র্যাপারের পাশাপাশি অন্য পেশা
অনেকেই মনে করেন তিনি কেবল একজন গায়ক, কিন্তু সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী তিনি একজন পেশাদার স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি প্রথমে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন এবং পরবর্তীতে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করেন। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তিনি নেপালের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্গঠনে সরাসরি কাজ করেন।
যে কারণে তিনি সফল
সততা ও স্বচ্ছতা : তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই।
আধুনিকায়ন : তিনি সনাতনী আমলাতন্ত্রের বদলে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদ : নেপালের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ভারত বা চীন- উভয় দেশের সঙ্গেই সমমর্যাদার কথা বলেছেন।