রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

উভয় জগতে সফলতা অর্জনের উপায়

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার

জীবনে সবাই সফল হতে চায়। প্রত্যেকে নিজের মতো করে সুখ ও সাফল্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করে নেয়। কেউ সম্পদে, কেউ খ্যাতিতে, কেউ ভোগে খুঁজে ফেরে তৃপ্তি ও সফলতার ঠিকানা। কিন্তু এই দৃশ্যমান সফলতার আড়ালে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে যায়। আসলেই কি এসব অর্জন মানুষকে প্রকৃত সফলতা এনে দেয়, নাকি তা সাময়িক তৃপ্তির ভ্রম তৈরি করে?

ইসলাম মানুষের সামনে সফলতার এক ভিন্ন দিগন্ত উন্মোচন করে। এখানে সফলতা কেবল দুনিয়ার অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রসারিত হয়েছে পরকালের চূড়ান্ত পরিণতি পর্যন্ত। একজন মুমিনের দৃষ্টিতে দুনিয়া হলো পরীক্ষার ক্ষেত্র আর পরকাল তার ফলাফলের স্থান। তাই সে এমন পথ বেছে নেয়, যা তাকে স্থায়ী কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়।

এই পথচলায় কিছু মৌলিক গুণ ও আমল মানুষকে আলাদা করে। এগুলো শুধু ইবাদতের সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং মানুষের চরিত্র, আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককেও যুক্ত করে। দুনিয়ার অস্থায়ী সফলতার মোহ থেকে মুক্ত হয়ে যে ব্যক্তি এসব গুণ ধারণ করে, সেই প্রকৃত অর্থে সফলতার পথে এগিয়ে যায়। তেমনই কিছু আমল ও গুণ উল্লেখ করা হলো।
এক : নামাজে খুশু-খুজু তথা বিনয়, নম্রতা ও স্থিরতা অবলম্বন করা। নামাজের অন্য রুকনগুলো হচ্ছে দেহের সমতুল্য আর ইখলাস ও খুশু-খুজু হচ্ছে প্রাণতুল্য। তাই নামাজের খুশু-খুজুকে মুমিনের সফলতার সর্বপ্রথম শর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর কারও নামাজ যদি ঠিক হয়ে যায় তাহলে তার সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। নামাজ মানুষকে যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।

দুই : অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা। এ সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মানুষ যখন অনর্থক কার্যকলাপ বর্জন করে তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। অনর্থক কার্যকলাপ বলতে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত নিদ্রা, মাত্রাতিরিক্ত কাপড়চোপড় তৈরি সবকিছুই বোঝানো হয়েছে। মনে রাখতে হবে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য সম্পদ। যারা সফল হতে চায়, তারা কখনো অহেতুক কাজে সময় ব্যয় করতে পারে না।

তিন : জাকাত প্রদান করা। জাকাত হচ্ছে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ। জাকাত মানুষের সম্পদকে পরিশুদ্ধ করে, মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ করেন, ‘যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে সে সফলকাম হয়েছে, যে নিজের আত্মাকে কলুষিত করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে।’

চার : আমানতদারি রক্ষা করা। আমানত শব্দ দিয়ে ওই দায়িত্ব বোঝায়, যা এমন কোনো ব্যক্তি বহন করে যার ওপর আস্থা ও ভরসা করা হয়। আমানত শব্দটি বহুবচন ব্যবহৃত হওয়ায় সব ধরনের আমানতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এই আমানত আল্লাহতায়ালার হক সংক্রান্তও হতে পারে। যেমন : ফরজ ও ওয়াজিব বিধিবিধানগুলো আদায় করা। হারাম ও মাকরুহ বিষয়াদি থেকে বিরত থাকা। বান্দার হক সংক্রান্তও হতে পারে। যেমন : কেউ কারও কাছে অর্থ-সম্পদ আমানত রাখল। তাহলে এই আমানত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত হেফাজত করা আমানতদারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ছাড়া কেউ কারও কাছে কোনো গোপন কথা বললেও কথাটি তার কাছে আমানত হিসাবে থাকে। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া কারও গোপন কথা ফাঁস করাও আমানতের খেয়ানত।

পাঁচ : অঙ্গীকার পূর্ণ করা। অঙ্গীকার বলতে এমন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বোঝায়, যা কোনো ব্যাপারে উভয়পক্ষ নিজের ওপর অপরিহার্য করে নেয়। এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ভঙ্গ করা বিশ্বাসঘাতকতা ও হারাম। একজন অন্যজনকে কিছু দেওয়ার কিংবা কোনো কাজ করে দেওয়ার এক তরফা যে অঙ্গীকার করে, তাও পূর্ণ করা ওয়াজিব। এ সম্পর্কে হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওয়াদা হচ্ছে এক ধরনের ঋণ। ঋণ আদায় করা যেমন আবশ্যক, ওয়াদা পূর্ণ করাও তেমনি আবশ্যক।’

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com