

মৌলভীবাজারে সরকারের কঠোর নির্দেশনার পরও নির্দিষ্ট সময়ে অফিস করছেন না মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিশেষ করে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য দেখা গেছে।
সকাল ৯টা থেকে অফিস করার বাধ্যবাধকতা থাকলে মানা হচ্ছে না এই নির্দেশনা। মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা হচ্ছে উপেক্ষিত। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো অফিস করছেন।
মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ অফিসে সকাল ৯টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতেও অফিসে আসেন। আবার অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। কারণ জানতে চাইলে নানা অজুহাত হাজির করা হয়।
সরজমিনে রোববার জেলার বিভিন্ন অফিস ঘুরে দেখা যায় এসব চিত্র। সকাল ৯টা ৯ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে, ৯টা ১০ মিনিটে পাশের এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার কার্যালয় তালাবদ্ধ।
বিআরটিএ অফিসের ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের তালা খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেননি। এছাড়া তাদের গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের রুম তালাবদ্ধ রয়েছে। এখানে কোন কর্মকর্তা আসেননি। ৯.১৬ মিনিটে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পিনাক পাণি ভট্টাচার্যকে অফিস গিয়ে পাওয়া যায়নি। ৯টা ১৭ মিনিটে জেলা খাদ্য অফিসার মিলন কান্তি চাকমাকে গিয়ে অফিসে পাওয়া যায়নি।
৯টা ১৮ মিনিটে জেলা কারিগরি খাদ্য অফিসার মো. সাকির আহমদ খানকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। ৯টা ২৩ মিনিটে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ৯টা ৩১ মিনিটে জাতীয় মহিলা সংস্থার অফিসে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
এসময় কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীকে গেইটের সামনে পাওয়া যায়। এছাড়া ৯টা ৪৪ মিনিটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আলাউদ্দিনের অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ১০টা ০২ মিনিটে গিয়ে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। অফিসের একজন কর্মচারী বলেন স্যার বাসায় আছেন। এই চিত্র জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলকে অফিসে গিয়ে মিটিংয়ে থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কল করবেন বলে জানিয়েছেন।