

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিনামূল্যে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যাওয়া প্রায় ৬০ জন সমর্থকের টিকিট বাতিল করেছে ফিফা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, টিকিট কেনার সময় অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় সমস্যার কারণে এসব টিকিটের মূল্য শূন্য দেখানো হয়েছিল এবং সেভাবেই বরাদ্দ হয়ে যায়।
ফিফা এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সমর্থকদের জন্য টিকিটগুলো এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের সঠিক মূল্য পরিশোধ করে টিকিট নিশ্চিত করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি নিয়ে এটি সর্বশেষ বিতর্ক। এর আগে টিকিট বিক্রির নানা অনিয়ম ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ভুল মূল্যের এই টিকিটগুলো গত ২১ মে বিশ্বকাপের সরকারি বিক্রয়মাধ্যমে বিক্রি হয়েছিল। অথচ এরও তিন মাস আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দাবি করেছিলেন, বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
তবে বাস্তবে এখনও বিভিন্ন ম্যাচের টিকিট বিক্রি করছে ফিফা। আগামী বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। কম চাহিদাসম্পন্ন ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম ভবিষ্যতে কমানো হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে টিকিট কালোবাজারি রোধে ফিফা নিজস্ব পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই কমিশন নেওয়ায় সেটিও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ইতিহাসের যেকোনো আসরের তুলনায় অনেক বেশি। ফিফার দাবি, এই অতিরিক্ত আয় বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার সময় গ্রুপ পর্বের শত-সহস্র টিকিট স্বল্প মূল্যে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ফাইনালের সামনের সারির সরকারি টিকিটের মূল্য পৌঁছে গেছে প্রায় ৩৩ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণে।