মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ অর্থবছরে ৬ মাসে ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ৮ গুণ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের এই ঋণের অংক পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সরকারের ব্যাংকঋণের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ৮ গুন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঋণের পরিমাণ ৫৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ব্যাংক ঋণ বাড়লেও সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

গত বছরের ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকার বিপরীতে এবার এই খাত থেকে ঋণ এসেছে মাত্র ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন বিল ও বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর থাকলেও সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতেই এই ঋণের একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করায় সরকারের এই বিশাল ঋণ গ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো সংকট তৈরি না করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকগুলো সরকারি ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com