রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়: জামায়াত আমির

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জাতির সাথে প্রতারণা, ধোঁকা এবং গাদ্দারি করে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। তারা এখন সেই পুরোনো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাকশালি কায়দায় একদলীয় শাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে।’

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘১১ দলীয় ঐক্য’ আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে দেশে খুনের রাজনীতির সূচনা করেছিল, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো শাসক এভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। মৃত্যুর চাইতেও পালিয়ে যাওয়া বেশি অপমানজনক, যা তাদের কপালে জুটেছে।’

বিএনপিকে লক্ষ্য করে জামায়াত আমির বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি এবং গণভোটকে ‘হারাম’ বলেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিএনপি দাবি করে একাত্তর তাদের, নব্বই তাদের, চব্বিশও তাদের। কিন্তু একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই হয়নি। জিয়াউর রহমান সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন—আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু একক ক্রেডিট একজনকে দিলে বাকি যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে? এটা যুদ্ধকে কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিএনপি ৩১ দফা সংস্কারের কথা বললেও এখন তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত প্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সব জায়গায়—বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে—নিজেদের লোক বসিয়ে ‘কু কু’ বা অভ্যুত্থান শুরু করেছে।’

সংসদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারি দল (বিএনপি) সংসদ নির্বাচনের ইঞ্জিনিয়ারিং স্বীকার করে নিয়েছে। তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির জোরে জনমতের রায়কে উপেক্ষা করছে। এমনকি জুলাই জাদুঘরকেও তারা দলীয়করণ করতে চায়।’

তিনি অভিযোগ করেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তারা গায়ের জোরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে জুলাই যোদ্ধাদের বসিয়ে আমাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ আমাদের সামনে কোনো কাগজপত্র না রেখেই হাত তুলতে বলা হয়েছে। আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিইনি এবং ঘৃণা নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।’

শহীদদের নিয়ে রাজনীতির নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শহীদরা কোনো দলের প্রপার্টি নয়, তারা জাতির গর্বিত সম্পদ। অনেকে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করতে চান, আমরা এর ঘোর বিরোধী।’

তিনি আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী যোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘তাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। আমরা পরিবারের সদস্য হিসেবে তাদের পাশে ছিলাম এবং থাকব।’

সবশেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘মিথ্যার সামনে আমরা মাথা নত করব না। প্রয়োজনে হাসতে হাসতে ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়াব, তবুও অন্যায়ের সাথে আপস করব না। যতদিন সংসদের ভেতরে লড়াই করতে পারব ততদিন থাকব, নইলে জনগণের কাছে ফিরে যাব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com