

আজ চৈত্র সংক্রান্তি বা চৈত্র মাসের শেষদিন। পুরনো বছরের সব ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালি। বিদায় ও আগমনের এই সন্ধিক্ষণ তাই একাধারে আবেগ, ঐতিহ্য ও নবজাগরণের প্রতীক।
ঋতুচক্রের অনিবার্য ধারায় চৈত্রের প্রখরতা যেন বিদায়েরই বার্তা বহন করে।
শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনির সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আগমনী সুর। চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়, এটি নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার এক প্রতীকী মুহূর্ত।
বাংলার গ্রামাঞ্চলে এদিনের আবহ আরো প্রাণবন্ত। পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি, ঘরে ঘরে নিরামিষ রান্না, ১৪ শাকের পদ বা ছাতু খাওয়ার ঐতিহ্য— সবই নতুন সূচনার প্রতীক।
স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনও এদিনের খাদ্যাভ্যাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সময়ের সঙ্গে নগরজীবনে রূপ বদলালেও গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য এখনো বহমান। মেলা, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, বায়োস্কোপসহ নানা আয়োজন এই দিনকে করে তোলে উৎসবমুখর। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লোকশিল্প প্রদর্শনী, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠসহ বিভিন্ন পরিবেশনা আয়োজন করা হয়েছে।
যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য।
সব মিলিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির জীবনে এক অনন্য দিন—যেখানে বিদায়ের বেদনার সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আশাবাদ। সময়ের স্রোত বয়ে চলে, বছর বদলায়, কিন্তু এই ঐতিহ্য রয়ে যায় চিরন্তন।