শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন

ভোটের আনন্দে মেতেছে গাজাবাসী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার

ভোটের আনন্দে মেতেছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়। স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন উপত্যকার বাসিন্দারা। প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচনে গাজার অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পশ্চিম তীরে অবস্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, গাজার দেইর আল-বালাহ শহরকে প্রতীকীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের ওপর তাদের কর্তৃত্বের দাবি আরও জোরালো হবে। ২০০৭ সালে হামাস তাদের সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজায় এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণে সংগ্রামরত বাসিন্দারা ভোট দেওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভোটের আনন্দে মেতেছে গাজাবাসী
অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
দেইর আল-বালাহ শহরের বাসিন্দা আদহাম আল-বারদিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই আমি নির্বাচন সম্পর্কে শুনে আসছি। আমরা অংশ নিতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা পরিবর্তন সম্ভব হবে।

ভোটের আনন্দে মেতেছে গাজাবাসী
মধ্যপ্রাচ্য সংকট / ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতিতে কেউ জিততে পারবে না
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেছে। অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এরপর গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান আলোচনা তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

ইউরোপীয় ও আরব দেশগুলো বলছে, গাজায় পুনরায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসন ফিরে আসা উচিত। এছাড়া গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীর নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত। বর্তমানে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের মধ্যে সীমিত স্বশাসন চালায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম জাতীয় নির্বাচনের পথ তৈরি করতে পারে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

দুই বছরেরও বেশি আগে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যকার গাজা যুদ্ধের পর এটিই প্রথম ফিলিস্তিনি নির্বাচন। সর্বশেষ চার বছর আগে পশ্চিম তীরে পৌর নির্বাচন হয়েছিল ।

রয়টার্স জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহ শহরে ভবনগুলোতে প্রার্থীদের তালিকা সংবলিত ব্যানার ঝুলছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কিছু ভোটগ্রহণ তাঁবুতে হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই ভোট শেষ করা হবে। এ শহরটি ২০২৩ সাল থেকে অন্যান্য গাজা শহরের তুলনায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার অন্যান্য এলাকায় ভোট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। গাজার অর্ধেকের বেশি অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে, বাকি অংশ হামাসের শাসনে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচন বর্জন করেছে। কারণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের কাছ থেকে তাদের চুক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন চেয়েছে। এরমধ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসন করা হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। তবে দেইর আল-বালাহর একটি প্রার্থী তালিকাকে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্লেষকরা হামাস-সমর্থিত বলে মনে করছেন। হামাস জানিয়েছে, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে। ভোটের আগে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গাজায় ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হামাসের সিভিল পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গাজায় ৭০ হাজারসহ মোট ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি ভোট দেওয়ার যোগ্য। ফলাফল শনিবার রাতের মধ্যে অথবা রবিবার ঘোষণা করা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com