

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু ১১ জুন। চার বছর পর পর বিশ্বে উন্মাদনা সৃষ্টি করে এ ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশে এ উন্মাদনা একটু বেশিই। ফুটবলপ্রেমীরা নিজের পছন্দের দল বা খেলোয়াড়ের জার্সি ও পতাকা কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের দলসেরা প্রমাণ করতে ভক্তদের মাঝে শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা। বিক্রেতারাও ব্যস্ত জার্সি ও পতাকা বিক্রিতে। রাজধানীর বিপণিবিতান, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে দেখা গেছে বিভিন্ন দেশের জার্সি ও পতাকা। ফুটবল বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিক্রির শীর্ষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি ও পতাকা। শো-রুম, বিপণিবিতান, ফুটপাতসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটকেও জার্সি বিক্রির ধুম পড়েছে।
গতকাল রাজধানীর উত্তরা আজমপুর, হাউস বিল্ডিং, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ও ফুটপাত সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটবলপ্রেমীরা প্রিয় দলের জার্সি কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। প্রতি পিস জার্সি কোয়ালিটি ভেদে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৯০০ টাকায়। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ আবার জার্সিও পেছনে লিখে নিচ্ছেন নিজেদের নাম ও পছন্দ মতো নম্বর। নাম ও নম্বর লেখাতে খরচ হচ্ছে ৫০-২৫০ টাকা পর্যন্ত। পতাকার সাইজ ও কাপড় ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ আবার ইচ্ছামতো কাপড় ও সাইজ অনুযায়ী বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে অবশ্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। জার্সি ও পতাকার পাশাপাশি ফুটবল এবং খেলার বুট কিনতেও ভিড় করেছে অনেকে। বিপণিবিতানের পাশাপাশি ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও জার্সি ও পতাকা বিক্রির হিড়িক পড়েছে। রাজধানীর গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারি ও খুচরা দুই ভাবেই জার্সির দাম বেড়েছে। এই শপিং কমপ্লেক্সের আধুনিক স্পোর্টসের দোকানি মো. হোসেইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঈদের আগে থেকেই জার্সি বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। ঈদের পর এখন চাহিদা বেশি থাকায় জার্সির দাম বেশি। পাইকারিভাবে জার্সির দাম ১৮০ থেকে বাড়িয়ে ২৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। প্লেয়ার ভার্সন জার্সি ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হতো। আমাদের জার্সি সংকট থাকায় কিছু দোকানে ফ্যান ভার্সন জার্সিই বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়। উত্তরা হাউসবিল্ডিং এলাকায় ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানে জার্সি ও পতাকা বিক্রি করেন মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শুধু বিশ্বকাপের সময়ই জার্সি ও পতাকা বিক্রি করেন তিনি। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জার্সি ও পতাকার পাশাপাশি বর্তমানে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে পতাকার তুলনায় জার্সি বিক্রির পরিমাণ বেশি। উত্তরাতে বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে জার্সি কিনতে আসা মো. ফাহিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনলাইন ও ফেসবুকে জার্সির দাম কিছুটা বেশি। তাই সরাসরি দোকান থেকে কিনতে এসেছি। তিনি বলেন, ‘আমার বান্ধবী অন্য দলের সমর্থক কিন্তু সে কিনে দেবে তাই তাকে নিয়ে এসেছি।’