বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন

আজই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ইরানের দ্বিমত

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে শান্তি চুক্তি আজ রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি সইয়ের সময়সূচি নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেহরান।ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তিটি আগামীকাল সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। এ জন্য তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই চুক্তি সইয়ের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক ঠিক কবে সই হবে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকাল হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে পরিস্থিতি শান্ত হলে আমরা গিয়ে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করব এবং পরে তা ধ্বংস করা হবে।’

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘চুক্তি দ্রুত, সহজ ও মসৃণভাবে বাস্তবায়িত না হলে ওয়াশিংটনের হাতে চূড়ান্ত বিকল্প রয়েছে।’ তবে তা তিনি প্রয়োগ করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনা পরবর্তীতে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তেহরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে তবেই ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

যদিও এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, লেবানন ইস্যু এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। তবে ইরান বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com