

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে আগামী শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এই বৈঠকে নতুন রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে পারে।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার মতো পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে চমক থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো আগে থেকেই নামটি ঠিক করে রেখেছেন। তাই এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে আলোচনায় অনেকের নামই রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে আছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও আসছে। অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আছে আলোচনায়।
‘শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা’ না থাকার কারণ দেখিয়ে গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান আওয়ামী লীগের সময়ে বঙ্গভবনে বসা মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হবেন, সেই আলোচনার মধ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকল বিএনপি।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হতে পারে। তবে বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনও কিছু জানি না।’
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রক্রিয়াগুলো সমন্বয় করে। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন কায়সার কামাল। তার সঙ্গে গত মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সম্প্রতি মির্জা ফখরুল জানান, আগামীতে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তিনি বিএনপির দলীয় নাকি বাইরের কেউ, তা নির্ধারণ করা হবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।