

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফলকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন এবং ফাইনালের পর মাঠে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ও কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। মালভিনাস, যা ব্রিটেনে ফলকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধের বিষয়। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে এ দ্বীপকে কেন্দ্র করে ৯০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, ক্রীড়া আসরে অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত বা রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। ব্যানারটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২০১৪ সালেও একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
এদিকে নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফিফার শৃঙ্খলাবিধির আওতায় হামলার তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে হামলার দুটি অভিযোগ এবং অসংযত আচরণের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি মারামারির অভিযোগ, বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অসংযত আচরণের অভিযোগ এবং স্পেনের গাভির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে তদন্ত চলছে।
ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও বর্ণবৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু না করা, ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন, দল ও দর্শকদের অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগ এনেছে।
ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়ার পর ডিসিপ্লিনারি কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান