শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী-ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার

ভারতের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন- দুটো বিপরীতমুখী। ভারতের নীতিনির্ধারক ও সরকার বিষয়টি বুঝবে বলে আশা প্রকাশ করি।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাবি সাদা দল ও ইউট্যাব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সমর্থন না করার কথা বললেও তাকে বিশ্বমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। ভারত কি শেখ হাসিনাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? তারপরে ভারত বললো- উনি যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমরা (ভারত) নাই। এভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। এই আন্তঃনির্ভরতাকে শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক মর্যাদা ও শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন- দুটো বিপরীতমুখী। ভারতের নীতিনির্ধারক ও সরকার বিষয়টি বুঝবে বলে আশা প্রকাশ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের তুলনা করার সুযোগ নেই। তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করে সেখানকার আইন মেনে রাজনীতি করেছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের (তারেক রহমান) পার্থক্য হলো, তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের আরও পার্থক্য রয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং হিন্দন বিমানবন্দরে তাকে মন্ত্রী পর্যায়ের একজন ব্যক্তি অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এ বিষয়গুলোও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে ভিন্ন।’

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ থেকে ভারত তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো পতিত স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট, গণহত্যার জন্য যিনি দায়ী, যিনি এই দেশে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন- তাকে কি ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ভারত স্বীকৃতি দিতে পারে? এই প্রশ্ন আমাদের রইলো।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ও চলমান মামলার প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং আরও মামলা চলমান। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে কোনো অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশও করা হয়নি। ভারতে হাসিনার বক্তব্য এলাউ করছে, একই সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইছে- দুইটা তো একসঙ্গে যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নিজেরাও প্রতিবাদ করছি। একজন ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী যিনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন—তাকে ভারতে বসে বারবার বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে, এটা আমরা সমর্থন করি না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, তা ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আরাধনার ফল। দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। ফলে চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’

রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানগুলো ধারাবাহিকভাবে সমাজের প্রয়োজনে, চাহিদার নিরিখে সংশোধন করা হয়েছে। একইভাবে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশা পূরণে আমাদের সংবিধানও গণতান্ত্রিক উপায়ে সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ফাঁদে ফেলার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না করি, তাহলে বাংলাদেশে আমাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। এটা চূড়ান্ত। কারণ ২০২৪ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন যারা শেখ হাসিনার আমল ভালো ছিল—এ ধরনের কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাদের বলতে চাই, এই জুলাই আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরিণতি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেও যদি এ ধরনের আওয়াজ আসে, তাহলে বিষয়টি আমাদের ভাবতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমাদের ভেতরে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যকে কোনোভাবেই দুর্বল করা যাবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com