শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

পরিহার করতে হবে পুরোনো ধারার রাজনীতি

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার

বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদ স্যামুয়েল পি হান্টিংটন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘পলিটিক্যাল অর্ডার ইন চেঞ্জিং সোসাইটিস’-এ উন্নয়নশীল ও তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশে নতুন সরকারের কাছে জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা থাকে। সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ বিকল্প খোঁজে। বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল না পেলে তাঁরা আবারও পুরোনা বিরোধীদের বেছে নেন।

স্যামুয়েল পি হান্টিংটনের এ মন্তব্য যে কতটা বাস্তবসম্মত, তা আমরা উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের দিকে দৃষ্টি দিলে সহজেই বুঝতে পারব। জনগণ অনেক আশা নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু একবার ক্ষমতায় আরোহণ করতে পারলে তাঁরা কৃত অঙ্গীকার ভুলে যান এবং কীভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা যায়, সেটাই তাঁদের কাছে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যে জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তাঁদের ভাবা হয় সরকারের আজ্ঞাবাহী। তাঁরা সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাঁর ওপর নেমে আসে বর্বর নির্যাতন। ক্ষমতাসীনরা জনগণকে তাঁদের প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে থাকেন। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় যে রাজনৈতিক দল জনকল্যাণের কথা বলে, তাঁরাই ক্ষমতায় যেতে পারলে গণবিরোধী চরিত্র ধারণ করে। এটাই চলে আসছে দিনের পর দিন। উন্নয়নশীল এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু সাধারণত রাজনৈতিক কালচার এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।

তিক্ত অভিজ্ঞতায় আকসার এমনই দেখা যায়-নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে ‘মই’ হিসেবে ব্যবহার করে। আর একবার ক্ষমতায় যেতে পারলে তাঁরা ক্ষমতা আরোহণের মইটিকে লাথি মেরে দূরে ফেলে দেয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ধারাই চলে আসছে দিনের পর দিন। দিন বদল হচ্ছে। পৃথিবী দ্রুত উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিক কালচারের এ পুরোনো ধারা টিকে আছে বহাল তবিয়তে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাজনীতির এই ধারা যেন অপরিবর্তনীয়ভাবে যুগের পর যুগ চলতে থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করেন। তাঁরা ভাবেন দেশটি তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি। তাঁরা জনগণের মনোভাব এবং চাওয়া-পাওয়া অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট এবং ব্যাপক মাত্রায় দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যত অচল করে দেন। তাঁরা দৃশ্যত কিছু উন্নয়নমূলক কাজও করে থাকেন, যাতে জনগণ খুশি হয়।

স্বৈরাচারী সরকারগুলো সাধারণত অবকাঠামোগত খাতে উন্নয়ন করে থাকে। কারণ অবকাঠামোগত খাতে যে উন্নয়ন সাধিত হয় তা দৃশ্যমান। কিন্তু এর পেছনে থাকে অন্য উদ্দেশ্য। উন্নয়ন নয়, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য থাকে-উন্নয়নের নামে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। প্রতিটি স্বৈরাচারী সরকারই তাঁদের দেশের অর্থসম্পদ লুটে নিয়ে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। এদের অন্যতম উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য থাকে জনমতের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা। একসময় জনগণ এসব সরকারের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দেয়। বিশ্বের বহু দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে।

স্বৈরাচারী সরকারকে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় করার পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আরোহণ করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের গণআকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়। তাঁরা মনে করেন, এবার বুঝি তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে। নতুন সরকার তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হবে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাঁদের মোহভঙ্গ হয়। আবারও তাঁরা সেই পুরোনো আবর্তে ঘূর্ণিপাক খেতে থাকে। ইতালীয় দার্শনিক পেরেটোর ‘সার্কুলেশন অব এলিট’ তত্ত্বের এটিই মূলকথা। রাশিয়ার দ্বিতীয় নিকোলাস ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। লিবিয়ার কর্নেল গাদ্দাফি ও ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন গৃহযুদ্ধে ক্ষমতা হারান। শ্রীলঙ্কার গোতাবায়া ও মাহিন্দা রাজাপাকসে সরকারের পতন হয় ২০২২ সালের জুলাই মাসে। আফগানিস্তানে আশরাফ ঘানি সরকারের পতন হয় ২০২১ সালে। গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসব দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মানুষ প্রত্যাশা করেছিল তাঁরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরে পাবে। তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। রাজনৈতিক ধারায় শুদ্ধতা ফিরে আসবে। কিন্তু নতুন সরকার সে প্রত্যাশা পূরণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলেও রাজনীতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে না।

স্বৈরাচারী সরকারগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চমৎকার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এরা মুখে জনগণের স্বার্থের কথা বললেও কার্যত জনবিরোধী কাজে নিয়োজিত থাকেন। তাঁরা দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং এই অর্থের জোগান আসে বৈদেশিক ঋণ থেকে। ব্যাপক দুর্নীতির কারণে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে তাঁরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করতে পারে না।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার উন্নয়ন কার্যক্রমের বেশ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কার হাম্বলটোটা জেলায় রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপন করা হয়। এ বিমানবন্দর নির্মাণ করতে ২০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আসে চীন থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে। বিমানবন্দরটি মোটেও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। ঠিক একই কথা প্রযোজ্য বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচার আমলে নির্মিত কর্ণফুলী টানেলের ক্ষেত্রে। এই টানেল নির্মাণের জন্য ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে চীন থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হয় ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। এই টানেল থেকে প্রতিদিন গড়ে আয় হয় ১০ লাখ টাকা। আর টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় হয় সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে লোকসান অন্তত ২৭ লাখ টাকা। গণ অভ্যুত্থানে পতিত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবার নামে এই টানেল নির্মাণ করা হয়েছিল। কথিত আছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের কারও নামে প্রকল্প গ্রহণ করা হলে তা অনুমোদন পেতে সহজ হতো। এই অপচর্চায় উন্নয়নের নামে এমন সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা মোটেও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য ছিল না। এসব প্রকল্প জনতুষ্টির পরিবর্তে বরং জনরোষ সৃষ্টি করে।

দেশে দেশে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একাধিকবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু গণ অভ্যুত্থান-উত্তর সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁরা নতুন ধারার রাজনীতি চালুর পরিবর্তে পুরোনো ধারার রাজনীতির চর্চা করে গেছেন। বাংলাদেশে তিনদলীয় জোটের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়। তাঁরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি, দলীয়করণ ও রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদ লুটে নেওয়ার প্রবণতা সাংঘাতিকভাবে বেড়ে যায়। ২০০১ সালে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশকে এক নম্বরে স্থান দেয়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ বেশ সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তাঁরা যখন বুঝতে পারে টিআই ২০০১ সালে দুর্নীতির ধারণা সূচকসংক্রান্ত যে প্রতিবেদন দাখিল করে, তার ভিত্তি বছর ছিল ২০০০ সাল অর্থাৎ আওয়ামী শাসনামল; তখন তারা চুপ হয়ে যায়। দুর্নীতি, দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, তা বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ দেখিয়ে দিয়েছে। তারা যতই উন্নয়নের গুণকীর্তন করুক না কেন, জনগণ ছিল তাঁদের ওপর ভয়াবহভাবে ক্ষুব্ধ। এই ক্ষুব্ধতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।

বিশ্বে অনেক স্বৈরাচারের কথা আমরা শুনি। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো এমন নিষ্ঠুর ও নির্মম স্বৈরাচারী শাসকের কথা কমই শোনা যায়। নৃশংসতার সব উপকরণ এসে যেত তার হাতে। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি আন্দোলন দমনের নামে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে ঠান্ডা মাথায় খুন করিয়েছেন। বাংলাদেশে একাধিকবার গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন হয়েছে। কিন্তু কোনো সরকারপ্রধানকে জনতার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়নি। শেখ হাসিনা পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। যদিও এর মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা পালায় না।’

মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভি ও কি জুনিয়র তাঁর বই ‘দ্য রেসপনসেবল ইলেকট্ররেট : রেসনালিটি ইন প্রেসিডেন্সিয়াল ভোটিং ১৯৩৬-১৯৬০’ গ্রন্থে একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তত্ত্বটি হচ্ছে, ভোটাররা ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি দেখে ভোট দেন না। বরং তাঁরা অতীত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কার অথবা শাস্তি দেওয়ার জন্য ভোট দেন। ক্ষমতাসীন সরকার ব্যর্থ হলে ভোটাররা বিরোধী দলকে ভোট দেন। অর্থাৎ নির্বাচনে ভোটাররা ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি প্রতিশোধমূলকভাবে বিরোধী দলকে ভোট দেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ তত্ত্ব প্রযোজ্য।

গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের ছয় মাস পুরতে চলেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলেও রাজনীতির সেই চিরাচরিত ধারা পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকারকে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কালচার পরিবর্তনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের কারও কারও মধ্যে আত্মপ্রচারের অপচেষ্টা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। এটা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নামকরণ বা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দলের তৃণমূল পর্যায়ের যেকোনো নেতা বা কর্মীর অন্যায় কাজের দায়ভারও কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ ব্যক্তির ওপরই বর্তায়। তাই এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। দলীয়প্রধান যদি কর্মীদের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাহলে তার সুফল তাঁর ভাণ্ডারেই জমা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার নৈতিক জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আলোকিত সমাজ গঠন করতে হলে সব ধরনের দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সরকার হচ্ছে জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার আমানতদার মাত্র। তাই কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে সবার প্রতি সমান আচরণ করাই সরকারের দায়িত্ব। জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা এবং দেশের রাজনীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে। সরকার সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। তার জন্য সাধুবাদ। তবে দেশে আর যেন কোনো অবস্থাতেই স্বৈরাচারের আগমন বা পুনরুত্থান ঘটতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

♦ লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রদূত। বর্তমানে ঢাবির প্রফেসর ইমেরিটাস

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com