সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

কলকাতায় নিরাপত্তাবিধি না মানায় ৯ গেস্টহাউস ও ৪ রেস্তোরাঁ বন্ধের নোটিশ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার একদিন পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের নয়টি গেস্টহাউস ও চারটি রেস্তোরাঁকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে নোটিশ দিয়েছে রাজ্যের ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস বিভাগ। ভারতীয় বার্তাসংস্থা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই নোটিশে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে কেন ফায়ার অ্যাক্টের ৩৭এ ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বন্ধের নির্দেশ জারি করা হবে না। এর আগে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের মহাপরিচালক অনুজ শর্মা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেখানে মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বুধবার ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় দুই নারী ও চার বছরের এক শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। ভবনটিতে একাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস ছিল। ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এই এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেশিরভাগ নিহতের শরীরে পোড়ার চিহ্ন ছিল না। বরং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ ও অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, একটি হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ভবনে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনের বাসিন্দারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং বের হওয়ার পথ খুঁজে না পাওয়ায় অনেকে আটকা পড়েন।

কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক মূল্যায়নে মির্জা গালিব স্ট্রিটের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে ব্যাপক অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। এলাকাটির অনেক প্রতিষ্ঠান ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হয় এবং এসব ভবনের ভেতরের চলাচলের পথ অত্যন্ত সরু হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার সুযোগ সীমিত।

ফায়ার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো হোটেল পরিচালনার জন্য ফায়ার বিভাগ ও পুলিশের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বুধবার যে ভবনে আগুন লাগে, সেটির ক্ষেত্রে কোনো সংস্থারই প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছিল না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে আগুনের কারণ ও ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ভবনটির বৈদ্যুতিক সংযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি ভবনের ভেতরে থাকা লোহার সিঁড়িটি অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি তৈরি করেছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কলকাতার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের অন্যান্য হোটেল, গেস্টহাউস ও রেস্তোরাঁর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের নোটিশের পর প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী জবাব দেয় এবং নিরাপত্তা ঘাটতি পূরণে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com