

মন্দ খবরের তোড়ে সুখবর তলিয়ে যাওয়া একটি তথ্যরসায়ন। এটি তথ্যবিজ্ঞানের ধর্মও। আবার ঘটনার সময়কালও একটি ব্যাপার। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ ও ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা। প্রথমটি ইতিবাচকে মাইলফলক আর দ্বিতীয়টি নোংরামিতে ভরা। বাস্তবে দেখা গেল দ্বিতীয়টিই বেশি ট্রিটমেন্ট পেয়ে গেল মিডিয়ায়। নিয়ম বা ব্যাকরণ না হলেও এটিই বাস্তব এবং প্রথা। এর মাত্র কদিন আগে সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের খবরটির ক্ষেত্রেও এমনই হয়েছে। নতুন দিগন্তের খোঁজ পাওয়া আশাজাগানিয়া খবরটিও তলিয়ে গেল নানা ঘটনার ঘনঘটা ও পরম্পরায়। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ৪২তম অবস্থানের খবরটি গণমাধ্যমে তেমন জায়গা পায়নি। সূচকের মূল্যায়নে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব ‘নিম্ন’। সন্ত্রাসের প্রভাবের মাত্রায় বাংলাদেশ এখন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চেয়েও ভালো অবস্থানে। পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থানের শক্তিমত্তা ও সক্ষমতা। ভারতের স্কোর ৬ দশমিক ৪২৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ দশমিক ৫২১ এবং যুক্তরাজ্যের ২ দশমিক ৯৩৬। বিপরীতে বাংলাদেশের স্কোর ২ দশমিক ২৮৬। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদের প্রভাবের বিচারে বাংলাদেশ এসব দেশের তুলনায় অনেক নিচে।
এক দশক আগে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের স্কোর যেখানে ছিল ৪ দশমিক ৮৬, সেখানে এক দশকের ব্যবধানে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ২৮৬-তে। দক্ষিণ এশিয়ার ভয়াবহ সন্ত্রাস পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের এ অবস্থান তাৎপর্যে ভরা। গেল বছর দক্ষিণ এশিয়াই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসপ্রবণ অঞ্চল। এবার বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ সহিংসতার রেকর্ড, যার ফলে সূচকের প্রথম স্থানে অবস্থান করছে দেশটি। ১৬৩টি দেশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এবার সেখানে পাকিস্তান ৮.৩৭৪ স্কোর নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সন্ত্রাসপ্রভাবিত দেশ। আফগানিস্তানের স্কোর ৬ দশমিক ৬৭৮। বিপরীতে বাংলাদেশ মাত্র ২ দশমিক ২৮৬ স্কোরে। অর্থাৎ একই ভৌগোলিক অঞ্চলে থেকেও সন্ত্রাসের প্রভাবের দিক থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত।
বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী পরিস্থিতির উন্নতির মধ্যেই বাংলাদেশের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যু ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২ জনে এবং সন্ত্রাসী ঘটনার সংখ্যা ২২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৪৪টিতে নেমেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ২ দশমিক ২৮৬ স্কোর এ সময়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিবিসিসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট হলেও দেশীয় গণমাধ্যমে খবরটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সের প্রতিবেদনটিতে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল তালিকার দশম স্থানে। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছয়টিই সাব-সাহারান আফ্রিকার-যেমন বুরকিনা ফাসো, নাইজার, নাইজেরিয়া ও মালি। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারত ১৩তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলেও বৈশ্বিক তুলনায় অবস্থান কিছুটা স্থিতিশীল। শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে-বুরকিনা ফাসো, নাইজার, নাইজেরিয়া, মালি, সিরিয়া, সোমালিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কলম্বিয়া, ক্যামেরুন, মিয়ানমার, মোজাম্বিক, ইরাক, রাশিয়া, ইরান, বেনিন ও থাইল্যান্ড। প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে দেখা যায় বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২ জনে নেমেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন।
সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আইএস এখনো বিশ্বে চিহ্নিত রয়েছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের সংগঠনটি দ্রুততম বর্ধনশীল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে অটুট আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বাড়ছে। ইরান বেশ ঝুঁকিতে। ইরান ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হলে তা সন্ত্রাসবাদের নতুন কেন্দ্র হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ড্রোন, জিপিএস ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার যে সন্ত্রাসীদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে, সেই তথ্যও এসেছে প্রতিবেদনে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস’ বিশ্বজুড়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনা ও নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস-আইইপির এ সূচকে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে তাদের প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে সূচকের মানগুলো একটি দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবের মাত্রা প্রতিফলিত করে। সূচকের মান ০ থেকে ১০-এর মধ্যে হয়ে থাকে। তালিকার একদম নিচের দিকের স্কোরগুলো নির্দেশ করে, ওই দেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো প্রভাব নেই। স্কোর যত ১০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়, ওই দেশের জনজীবনে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব তত বৃদ্ধি পায়। ফলে তালিকার শীর্ষে থাকা দেশগুলোর তুলনায় নিচের দিকের দেশগুলোতে সন্ত্রাসবাদজনিত সমস্যা কম থাকে।
গত পাঁচ বছরের চারটি নির্দেশকের ওপর ভিত্তি করে একটি গাণিতিক গড় থেকে এই সূচকের মান নির্ধারণ করা হয়। এই নির্দেশকগুলোর মধ্যে রয়েছে জিম্মি দশা, নিহতের সংখ্যা, আহতের সংখ্যা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা। প্রতি বছর দেশগুলোর মান পুনরায় গণনা করে একটি নতুন বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ এখনো একটি উল্লেখযোগ্য বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় খারাপ স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। ৭ দশমিক ২৬২ স্কোর নিয়ে বিশ্বে দেশটির অবস্থান নবম। এই অঞ্চলে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতের স্কোর ৬ দশমিক ৪১১। বিশ্বে দেশটির অবস্থান ১৪তম। দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম স্থানে থাকা নেপালের স্কোর ১ দশমিক ১১৩। বিশ্বে দেশটির অবস্থান ৬৮তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে শ্রীলঙ্কা। ২০১৯ সালের পর দেশটিতে কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা এ ধরনের হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সন্ত্রাসী হামলায় উন্নতি হওয়ার দিক থেকে এ অঞ্চলে শ্রীলঙ্কার পরে রয়েছে নেপাল।
দেশটিতে এ নিয়ে টানা দুই বছর কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অথচ পাকিস্তান বর্তমানে চরম সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। ভারতশাসিত কাশ্মীরে নিয়মিত সীমান্ত সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সক্রিয় মাওবাদী, নকশালপন্থি, চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ক্রমাগত সশস্ত্র কার্যক্রম ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা এবং চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। ভারতের এই নাজুক অবস্থার বিপরীতে তালিকায় ৪২তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, যা বিশ্বব্যাপী ‘মাঝারি থেকে কম’ ঝুঁকির পর্যায়কে নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশীর তুলনায় বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দৃশ্যমানভাবে কম।
বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব নিয়ে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির এ তথ্য সূচকে আলোচনার আরও অনেক উপাদান রয়েছে। গল্প নয়, সন্ত্রাসবাদের প্রভাব যে এখনো দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে, তা সবার জন্যই একটি বার্তা। বিশেষভাবে খেয়াল করার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু কোনো দেশের জনগণকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তারা মূলত একটি দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব কতটা, সেটি পরিমাপ করেছে। হামলার সংখ্যা, নিহত ও আহতের সংখ্যা, জিম্মি এবং এসব ঘটনার সামগ্রিক প্রভাবসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সূচক তৈরি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ সুখবর পেয়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জন্য তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ওপরের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুসলিম দেশকে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান দেখাচ্ছে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও করতে পারে। প্রতিবেদনের তথ্যাদি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি দ্বিমুখী বার্তা দেয়। একদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো এখনো সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ প্রভাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। চূড়ান্ত সাফল্য ভেবে বসে না থেকে এ স্বস্তিকে সামনে আরও এগিয়ে নিতে হবে। একটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একবার ভালো হলেই তা স্থায়ী হয়ে যায় না। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হবে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব আরও কমিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পূর্বে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বিশ্বের কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো বিশ্বজুড়ে জাল বিস্তার করেছে।
বছর কয়েক ধরে সন্ত্রাসবাদ এক অতিজাতিক এবং আন্তমহাদেশীয় রূপ নিয়েছে। মনে রাখতেই হবে, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ বিভিন্ন আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কৌশলগত কারণে বিভিন্ন ধরনে বিভক্ত। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ কোনো নির্দিষ্ট একমুখী ধারণা নয়, বরং অঞ্চল, উদ্দেশ্য এবং আদর্শের ভিত্তিতে বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসবাদ দেখা যায়। রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন, ধর্মীয় চরমপন্থা, জাতিগত বিদ্বেষ বা অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদের রূপ ও কৌশল পরিবর্তিত হয়। তা যেকোনো সমাজব্যবস্থা এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য অভিশাপ। পাশাপাশি মানবতার প্রতিও চরম হুমকি। এটি শুধু আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বায়নের এ ছাতায় এক দেশের সমস্যা প্রতিবেশীসহ আরও অনেকের জন্য, একপর্যায়ে সব দেশের জন্যই সমস্যা।
♦ লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট