

মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহ আর ভেঙে যাওয়া সংসার-কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার (৩৫) ব্যক্তিগত জীবনের গল্পে উঠে এসেছে এসব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন তিনি।
মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতেন স্ত্রী জেসমিন। শ্বশুরবাড়িতে থেকেও একে একে বিক্রি করে দেন ঘরের আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। সেই সুমনের বিরুদ্ধেই এখন ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ।
মাদকাসক্তিতে ভেঙেছে সংসার: সুমনের পারিবারিক জীবনের এসব তথ্য জানিয়েছেন তাঁর ভায়রা যুবায়ের। তিনি জানান, সুমনের ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাদকাসক্তি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী জেসমিন সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। সুমন থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ একে একে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে দেন তিনি। বর্তমানে নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন সুমন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুমন। দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের জেরে লালমাই থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।
সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। বিয়ের পর ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়ানগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। তবে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরে জান্নাতুল তাজমিন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে একটি বাস থেকে নামে সে। সেখান থেকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন।
পুলিশের দাবি, অটোরিকশাচালক সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের অলংকার এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ ঘটনায় সুমনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। শনিবার রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।