সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

ডায়ালিসিসে বেঁচে থাকার গল্প

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ বার

ভোর ৪টায় ঘুম থেকে ওঠেন স্বামী। স্ত্রীর খাবার, ওষুধ, ডায়ালিসিসে যাওয়ার প্রস্তুতি—সবকিছু যত্নসহকারে গুছিয়ে দেন তিনি।

এভাবেই শুরু হয় আরেকটি দিনের লড়াই। রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করতে স্ত্রীকে নিয়ে ছোটেন হাসপাতালে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর শরীরে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। কিন্তু সেই স্বস্তি সাময়িক।
আবার ডায়ালিসিস, আবার হাসপাতাল, আবার পরের সেশনের অপেক্ষা।

মরিয়ম আক্তার লিপির জীবনে এভাবে জড়িয়ে গেছে ডায়ালিসিসের যন্ত্র। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এভাবে চলছে। গতকাল রবিবার দুপুরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন লিপি।

তিনি জানান, সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালিসিস নিয়ে অনেকটা সুস্থবোধ করছেন তিনি।

শুধু মরিয়ম আক্তার লিপি নন, দীর্ঘদিন ডায়ালিসিস নিয়ে বেঁচে থাকা আরো দুজন রোগীর অভিজ্ঞতার কথা জানান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. এবাদুর রহমান। তিনি বলেন, এই রোগীদের কেউ কৈশোর থেকে প্রায় দুই দশক অব্যাহত চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ কর্মজীবনের মাঝপথে কিডনি বিকল হওয়ার পর নিয়মিত ডায়ালিসিসের ওপর নির্ভর করে টিকে আছেন।

রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব এডিনবরার সাবেক এই আঞ্চলিক উপদেষ্টার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘ সময় ডায়ালিসিস নিয়ে বেঁচে থাকা রোগী বিরল। বিশ্বব্যাপী কিংবা বাংলাদেশে ডায়ালিসিস নেওয়া রোগীরা গড়ে পাঁচ থেকে সাত বছর বাঁচেন।

এ ধরনের রোগীর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সঠিক স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা এবং মেটিকুলাস জীবনযাপন নির্দেশিকা মেনে চলায় ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ডায়ালিসিসে রোগীর টিকে থাকার ব্যতিক্রমী উদাহরণ আছে।’

ডা. এবাদুর রহমান বলেন, ‘ডায়ালিসিসের সফলতা নির্ভর করে মানসম্মত পানি শোধন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত স্টাফ, উন্নত সরঞ্জাম এবং হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ প্রতিরোধের ওপর। রক্তে ক্রিয়েটিনিন ১০-১২ হওয়ার পর ডায়ালিসিস শুরু না করে, ৪-৬ থাকা অবস্থাতেই ‘ইনক্রিমেন্টাল ডায়ালিসিস’ শুরু করলে রোগীদের জীবনকাল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।’

বাংলাদেশের ডায়ালিসিস রোগীদের নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক, তিন ও পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার যথাক্রমে প্রায় ৯৫, ৮০ ও ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে  ভারতে এক বছর পর ৮৭.৭ শতাংশ এবং পাঁচ বছর পর ৫৮.২ শতাংশ। পাকিস্তানে গড়ে বেঁচে থাকার হার ২৮ মাস বা দুই বছর চার মাস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে এক বছর পর্যন্ত ৭০ থেকে ৯৪ শতাংশ ও পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫৩ থেকে ৬৪ শতাংশ। জাপানে এক বছর ৮৮ শতাংশ ও পাঁচ বছর ৬০ শতাংশ।

হাসপাতালের বিছানা আর সন্তানের জন্য আকুতি : মরিয়ম আক্তার লিপির অসুস্থতার শুরুটা ছিল আকস্মিক। উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে তাঁর কিডনি বিকল হয়ে যায়। ২০০৯ সালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল, তাঁকে লাইফ সাপোর্ট পর্যন্ত নিতে হয়। এরপর শুরু হয় ডায়ালিসিস।

চিকিৎসার প্রথম ছয় মাসের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে লিপি বলেন, ‘হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুধু চোখের জল ফেলতাম। ঘরে রেখে আসা নবজাতক সন্তানটির কথা মনে হলে বুক হাহাকার করে উঠত। সন্তানকে কাছে পাওয়ার আকুলতা আর সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষা—এই দুই নিয়ে কাটত দিন।’

কিন্তু অসুস্থতা দীর্ঘ হতে থাকে। একসময় বুঝতে পারেন, এই লড়াই কয়েক দিন কিংবা কয়েক মাসের নয়। বেঁচে থাকতে হলে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে, শরীরের যত্ন নিতে হবে, প্রতিটি জটিলতার সঙ্গে লড়তে হবে।

লিপি বলেন, ‘কিডনি বিকল হওয়ার পর প্রথমে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস নিতে হতো। পরের বছর কিডনি প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিই। প্রতিস্থাপনের প্যাকেজে খরচ হয় প্রায় সাত লাখ টাকা। কিন্তু প্রতিস্থাপিত কিডনি কার্যকর হয়নি। আবার অস্ত্রোপচার করতে হয়; সব মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা।’

তিনি জানান, এরপর শুরু হয় সংক্রমণ জটিলতা। প্রতিস্থাপনের এক সপ্তাহের মধ্যে শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় পাঁচ মাস ধরে সকালে-বিকেলে ক্ষত পরিষ্কার করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিতে হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ভারত থেকে বিশেষ অ্যান্টিবায়োটিক আনাতেও প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। এত অর্থ ব্যয় করেও প্রতিস্থাপিত কিডনি কার্যকর হয়নি। আবার ফিরতে হয় ডায়ালিসিসে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও কিডনি প্রতিস্থাপনের সময় ব্যবহৃত ওষুধে তাঁর হাড় দুর্বল হয়ে যায়। হাঁটু ও ঊরুর হাড়ে তীব্র ব্যথার কারণে কিছুদিন হুইলচেয়ারেও চলতে হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে রক্তচাপের ওঠানামা ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার মতো জটিলতা।

সুস্থতা জিনিসটা আসলে কী : এভারকেয়ার হাসপাতালে ডায়ালিসিস নেওয়া আরেক রোগী তৌহিদুল আলমের বয়স বর্তমানে ৩৫ বছর। জন্ম থেকেই তিনি অসুস্থ। নিউরোজেনিক ব্লাডার নামে জন্মগত সমস্যার কারণে প্রস্রাবের থলি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। এই জটিলতায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০০৭ সালে তাঁর কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় শুরু হয় ডায়ালিসিস।

কৈশোরে যে সময়টায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ পেশা কিংবা সংসার নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা, সেই সময়টায় তাঁর জীবনে শুরু হয় নিয়ম মেনে হাসপাতাল আর ডায়ালিসিস।

গতকাল দুপুরে মোবাইলে কথা হয় তৌহিদুলের সঙ্গে। কেমন আছেন জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, ‘সুস্থতা জিনিসটা আসলে কেমন, সুস্থ মানুষ কী কী করতে পারে—সেই অনুভূতি আমার কখনোই ঠিকমতো জানা হয়নি। জন্ম থেকেই অসুস্থতার মধ্যে বড় হয়েছি।’

তৌহিদুল জানান, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্যাঙ্কক ও ভারতে গিয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান মেলেনি। চিকিৎসকরা তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর মূত্রথলির সমস্যার যথাযথ সমাধান না হলে প্রতিস্থাপিত কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ডায়ালিসিস শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল ডায়ালিসিস নেওয়া রোগীরা তিন বছরের বেশি বাঁচেন না। মাত্র ১৭ বছর বয়সে আমার মধ্যে  মৃত্যুভয় চেপে বসেছিল। পরে জানতে পারি, যিনি কথাটি বলেছেন, তিনি নিজেই সাড়ে চার বছর ধরে ডায়ালিসিস নিচ্ছেন। ঘটনাটি আমার ভাবনায় পরিবর্তন আনে।’

‘এখন সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালিসিস নিতে হাসপাতালে যাই। সময়টাকে শুধু চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা কয়েকটি ঘণ্টা হিসেবে দেখি না। সেখানে অন্য রোগীদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা যায়। অসুস্থতার মধ্যে এই সম্পর্কগুলোই আমার জীবনে আনন্দের জায়গা করে নিয়েছে।’

তাঁর কথায়, নিয়মিত চিকিৎসা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা দীর্ঘদিন ডায়ালিসিস নেওয়া রোগীর জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারে।

পাঁচবার হৃদযন্ত্র বন্ধ, তবু ফিরেছেন জীবনে : আফতাব উদ্দিন আহমেদের কিডনি রোগ ধরা পড়ে ২০০৭ সালে। তখন তাঁর বয়স ৩৬ বছর। খাবারে অরুচি, বমি বমি ভাব ও দুর্বলতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর পরীক্ষা করে জানা যায়, তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো।

২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় নিয়মিত ডায়ালিসিস। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৯ বছর। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৫৬। পেশায় শিক্ষক আফতাবের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। চিকিৎসার সুবিধার জন্য বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়ালিসিস নিচ্ছেন আফতাব। পাশে ছিলেন তাঁর শিক্ষক স্ত্রী কামরুন নাহার শিউলি।

আফতাব জানান, শুরুতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন চিকিৎসক কৃষ্ণমণি সাহার তত্ত্বাবধানে। পরে হাসপাতালের অন্য বিশেষজ্ঞদের অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন। কেন কিডনি প্রতিস্থাপন করেননি—প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রোগ ধরা পড়ার সময় প্রতিস্থাপন নিয়ে ঝুঁকি ও অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কা ছিল। তাই নিয়মিত ডায়ালিসিস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস নিতে হয়। এতে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়।

দীর্ঘ এই চিকিৎসাজীবনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাঁচবার হৃদ‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সংকটের মুখেও পড়েছেন আফতাব। প্রতিবার চিকিৎসকদের সিপিআর, নিবিড় পরিচর্যা ও লাইফ সাপোর্টের সহায়তায় ফিরে এসেছেন জীবনে।

ডায়ালিসিস না পাওয়ার পরিণতি : অধ্যাপক ডা. এবাদুর রহমান বলেন, ‘কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট লক্ষণই দেখা যায় না। মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছালে দুর্বলতা, বমিভাব, অলসতা, চুলকানি, শরীরে পানি জমে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। ডায়ালিসিস না করতে পারলে শরীরে পানি জমে ফুসফুসে চলে যায়, রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে হৃদরোগ এবং ইউরিয়া বেড়ে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে। কিডনির কার্যক্ষমতা ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ডায়ালিসিস বা চিকিৎসা ছাড়া এক থেকে তিন মাসের মধ্যে রোগী মৃত্যুবরণ করতে পারে।’

চিকিৎসার সুযোগ সীমিত : বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রকৃত বিস্তার ও চিকিৎসার ঘাটতি নিয়ে নির্ভুল জাতীয় হিসাব নেই। কতজন কিডনি রোগে আক্রান্ত, বছরে কতজন শেষ পর্যায়ের কিডনি বিকল হওয়ার অবস্থায় পৌঁছায় এবং তাদের কতজন নিয়মিত ডায়ালিসিস পায়—এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নিবন্ধন নেই।

তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দেশে দুই কোটি থেকে তিন কোটি মানুষের কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে কিডনি ‘গ্লোবাল ডায়ালিসিস পারসপেকটিভ : বাংলাদেশ’ শীর্ষক পর্যালোচনায় বলা হয়, দেশে বছরে আনুমানিক ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকলের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়। এদের মধ্যে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার নতুন রোগী ডায়ালিসিসসেবা পায়। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা অনেক কম।

২০২৪ সালে প্রকাশি আন্তর্জাতিক নেফ্রোলজি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারতে ১৬ শতাংশ, বাংলাদেশে ১৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১২ শতাংশ এবং নেপালে ৬ শতাংশ কিডনি রোগের প্রকোপ পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক ডা. এবাদুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে কিডনি রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত, যা সংখ্যায় তিন কোটিরও বেশি। বর্তমানে অন্তত এক লাখের বেশি রোগী কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালিসিসের পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ডায়ালিসিস গ্রহণকারী প্রবীণ ও অন্য রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশের মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, বংশগত বা জন্মগত ত্রুটি ও কিডনি প্রদাহ অন্যতম।’

কিডনি প্রতিস্থাপনের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি জানান, বিদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর সফলতার হার ৯৮ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত হলেও বাংলাদেশে এর সঠিক ডাটা নেই। ডায়ালিসিসে যাওয়ার আগেই ‘প্রিম্পটিভ ট্রান্সপ্লান্ট’ বা আগাম কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

ইরানে সরকারি নিয়ন্ত্রণে ও আর্থিক সহায়তায় বৈধভাবে কিডনি দানের ব্যবস্থা রয়েছে; বাংলাদেশেও এ ধরনের রেগুলেটেড প্রোগ্রাম করা যেতে পারে। সৌদি আরবে ৪০ শতাংশ কিডনি আসে ক্যাডাভেরিক বা মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে। মৃত ব্যক্তির অঙ্গদানের জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত সার্জন টিম, উপযুক্ত ম্যাচিং ডেটা বেইস এবং কেন্দ্রীয় অর্গানাইজেশন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com