

দেশে রাজনৈতিক কোনো সংগঠনের প্রথম ভার্চুয়াল সম্মেলন হয় গত ১৯ জুন। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই সম্মেলনের পরদিনই নতুন কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু তিন মাস হতে চললেও কবে এ কমিটির ঘোষণা আসবে তা কেউই জানেন না। কোন্দলে বহুধা বিভক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতাদের চাহিদা পূরণ করতে না পারাই কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বিলম্বের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আমাদের সময়কে বলেন, আসলে সবার সঙ্গেই আলোচনা করে কমিটি গঠন করতে হচ্ছে। তাই একটু দেরি হচ্ছে। তবে আশা করি এ মাসের মধ্যেই আপনাদের একটি সুখবর শোনাতে পারব। তিনি নিশ্চিত করেই বলেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই কমিটি হবে।
চট্টগ্রামে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদপ্রার্থী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমিটি ঘোষণা হবে এমন খবর শুনলেই তারা ছুটছেন ঢাকায়। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রভাবিত করতে চট্টগ্রামসহ ঢাকার নেতাদের মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন। ২১ বছর আগে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন থেকে ঢাকায় অবস্থানকারী নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে গত ১৯ জুন নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি পদে ৪১ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৩ জন ফরম পূরণ করেন।
স্বাধীনতার পূর্বাপর সময়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নানাভাবে বিভক্ত ছিল। বর্তমানেও সেই বিভক্তি অব্যাহত আছে। সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রধান দুইধারার নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। দুজনই চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর ওই পক্ষের হাল ধরেছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি।
তবে এর বাইরে সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফছারুল আমীনের নেতৃত্বেও একটি স্বতন্ত্র ধারা রয়েছে নগর আওয়ামী লীগে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামসহ নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট আছেন তার সঙ্গে।
প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নাছির গ্রুপের পক্ষ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম জমা দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ দুটি নিশ্চিত করতে চাইছে। মহিউদ্দিন গ্রুপে নাম রয়েছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল, দেবাশীষ নাথ দেবু ও মো. সালাহউদ্দিনসহ কয়েকজনের। আর নাছির গ্রুপে আছে হেলাল উদ্দিন, মাহবুব এলাহী, মিনহাজুল আবেদীন সায়েম, আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পীসহ একাধিক নাম। তবে ডা. আফছারুল আমীনের পক্ষ থেকে কেবল সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. সাইফুদ্দিনের নাম দেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য জানা গেছে।
এর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী চট্টগ্রাম অঞ্চলের আওয়ামী লীগ নেতারাও চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগে তাদের হিস্যা চাইছেন। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী কোনো সংগঠনের নতুন কমিটি না হওয়ায় এই একটি মাত্র সংগঠনকে কেন্দ্র করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সকল উপদল। চট্টগ্রামে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, ড. হাসান মাহমুদ যুগ্ম সম্পাদক, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া দপ্তর সম্পাদক ও আমিনুল ইসলাম উপ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে আছেন।