

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল’ স্থাপন করা হবে আগামীকাল রবিবার। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট ১-এ এই রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের এ কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলেক্সে লিখাচেভ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি বলেন, ‘নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল এ প্রকল্পের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করি কেন্দ্রটি সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারবে।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এ অংশটি রাশিয়ার ভলগা নদী থেকে ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশে আনা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর আমাদের সময়কে বলেন, ‘নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এটি রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য বসানো হচ্ছে।’
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট হয়। একই বছর জাতীয় সংসদে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর পর বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অ্যাক্ট পাস হয় ২০১২
সালে। ২০১৩ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রুশ নকশা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিটেই তৃতীয় প্রযুক্তির বা ‘থ্রি প্লাস’ প্রজন্মের সর্বাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর’ স্থাপিত হবে। রিঅ্যাক্টরগুলোর কার্যকাল ৬০ বছর, যা প্রয়োজনে আরও ২০ বছর বাড়ানো যাবে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সময়মতো উৎপাদনে যেতে পারলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে এখনো আশঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের যে লাইন নির্মাণ করতে হবে, সেটি সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ শুরু থেকেই পিছিয়ে। এখনো গতি ফেরেনি।’
আর্থিক বিবেচনায় রূপপুর এনপিপি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাশিয়া ৯০ শতাংশ দিচ্ছে ঋণ হিসেবে, যা প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ২৮ বছরে পরিশোধ করা যাবে। প্রকল্প ব্যয়ের অবশিষ্ট ১০ শতাংশ অর্থ জোগান দেবে বাংলাদেশ। রূপপুর দুটি ইউনিট থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। কেন্দ্রটির সব যন্ত্রপাতি তৈরি, সরবরাহ ও নির্মাণে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম।
পাবনার ঈশ^রদীতে নির্মাণাধীন দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশে দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বলে আশা করছে সরকার। দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় বর্তমানে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায়।