

কুমিল্লার ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গাফিলতি দেখছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনার পর সরকার যথেষ্ট সময় পেয়েও বিষয়টির গভীরে গিয়ে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেনি। তাৎক্ষণিকভাবে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে উদাসীনতা ছিল। এ ঘটনায় বিএনপি দলীয় অবস্থান জানাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে আজ রবিবার নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে।
এদিকে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির হাইকমান্ড থেকে দলের নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির দপ্তর থেকে দলের সব ইউনিটকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের সময়কে বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে। এতে বহির্বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
বিএনপি নেতারা মনে করেন, গত বুধবার সকালে ঘটনার সূত্রপাত হলেও কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিক্রিয়া দেখা যায় দুপুরের পর। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রমাণ হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার যথেষ্ট সময় পেয়েছে। কিন্তু ঘটনার মর্ম সরকার বোঝেনি নাকি ইচ্ছা করে সময় নষ্ট করেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
বিএনপির এক নীতিনির্ধারক বলেন, সরকারি দলের বা বিএনপির কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ঘটনার পর সরকার শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও মনে হয়নি। তাই এখানে সরকারকে দায়ী করলে তা দোষের নয়। কারণ রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের দৃঢ় বন্ধন বজায় রাখব। সরকারের উসকানির মুখে আমরা কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাব না। আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সব সম্প্রদায় ঐতিহ্য অনুযায়ী বন্ধুত্বের বন্ধনীর মধ্য দিয়ে যে কোনো উসকানি রুখব।
গত শুক্রবার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, প্রশাসনের উচিত সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে, ফুটেজ দেখে দোষীদের খুঁজে বের করা। এ ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও করছি।