বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

‘খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল’, গুজব ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৮৮ বার

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম গুরুতর অসুস্থ। প্রথম থেকেই বলে এসেছি তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, এটিই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। তার অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন)। তাকে বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, এটা চিকিৎসকদের কথা। সুনির্দিষ্টভাবে তারা দেশের নামও বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিÑ এ তিনটি দেশের যে কোনো জায়গায় হতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল যখন মতবিনিময়ে বক্তব্য রাখছিলেন তার কয়েক ঘণ্টা আগে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। খবর পেয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠান থেকে রাজধানীর গুলশানের এভারকেয়ার হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল। রাত ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাডামের শরীর যথাযথভাবে সাড়া দিচ্ছে না। তার শরীর ওষুধ গ্রহণ করতে পারছে না।’ বিএনপির একটি সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে খালেদা জিয়ার হিমোগ্লোবিন ও রক্তচাপ কমে গিয়েছিল। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত। রক্তও দিতে হয়েছে। গতকাল বিকাল থেকেই এ অবস্থা চলছে।

গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বিভিন্ন ধরনের গুজবও ছড়াতে থাকে। এতে সারাদেশ থেকে উদ্বিগ্ন বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির কিছু নেতাকর্মী।

গত ১২ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড চিকিৎসা দিচ্ছে। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে ২৬ দিন এ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এ সময় তার বায়োপসি পরীক্ষাও হয়। এর আগে গত এপ্রিলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক মাসের বেশি সময় এ হাসপাতালের সিসিইউতে ছিলেন তিনি।

গতকাল মতবিনিময়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। তিনি আরও বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রতিদিন বোর্ড মিটিং করেন, আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত বৈঠক করেন, আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কখনো (খালেদা জিয়ার অবস্থা) একটু ভালো হয়, কখনো একটু খারাপ হয়Ñ এ অবস্থার মধ্যে চলছে।

এদিকে, গতকাল মধ্যরাত থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। এরপরই পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া শুরু হয়। একাধিক সূত্র বলছে, চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবি ঘিরে কেউ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্যই দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে ফেসবুকে গুজব বা অসত্য তথ্য ছড়ানোর কারণে বিশৃঙ্খলার বিষয়টিতেও নজর রাখা হচ্ছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার পর খালেদা জিয়াকে কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই বছর বন্দিজীবন কাটাতে হয়। করোনা সংক্রমণের মধ্যে পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। এর পর কয়েক দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com