বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

জিয়াউর রহমান ও কিছু কথা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার

সারাদেশ গভীর ঘুমে নিমজ্জিত। শেষ রাতে চট্টগ্রামে সেদিন মুষল বৃষ্টি। ঘাতকেরা তাদের দুষ্কর্ম সেরে তাড়াতাড়ি পালিয়েছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে। প্রধান গেট আর বারান্দায় ছড়িয়ে আছে নিরাপত্তা প্রহরীদের অবিন্যস্ত মৃতদেহ। দোতলার সিঁড়ির কাছে অত্যন্ত অনাদরে পড়ে আছে দেশের সর্বস্তরের মানুষের একান্ত প্রিয়জন, মনের গহিনে জায়গা নেওয়া প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ।

সদ্য তাহাজ্জুতের নামাজ শেষ করে ফজরের আযানের প্রতীক্ষায় থাকা মানুষটি বাইরে গোলাগুলির শব্দ শুনে সবে কক্ষ থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়েছেন ঘটনা জানবার জন্য। দেশের মানুষের একান্ত আপনজন শহীদ জিয়া কখনোই নিরাপত্তার কঠিন বাঁধনে না বেঁধে বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয়ে সাধারণ মানুষের মতো গ্রামের আইল আর গেরস্তের উঠন পেরিয়েছেন পরম আত্মবিশ্বাসে। মাটির বারান্দায় বসে কুয়োর পানিতে তৃষ্ণা মিটিয়েছেন নির্দ্বিধায় আর গ্রামের সাধারণ মানুষ আপনজনের আস্থায় টিনের থালায় এগিয়ে দিয়েছেন আপ্যায়নের গুড়-মুড়ি আর বাড়ির তৈরি মোয়া। এতো গভীর ভালোবাসায় নিরাপত্তার চাদর জড়িয়ে নিজেকে জনবিচ্ছিন্ন করার কথা ভাবতেই পারেননি এই ক্ষণজন্মা মানুষটি।

মানুষের মনের রাজা চলে গেছেন অকস্মাৎ শত মাইল দূরে ঢাকায় কিশোর দুই পুত্র বা স্ত্রী তখনও জানেন না। কত বড় সর্বনাশ ঘটে গেছে কিছুক্ষণ আগে। দেশের মানুষের কথা ভাবতে গিয়ে পরিবার-পরিজন আর নিকটাত্মীয়দের কথা ভাববার সময়ই হয়নি শহীদ জিয়ার। অন্য আর দশজনের পিতৃ বা স্বামী বিয়োগের বেদনার সাথে এই ঘটনার অমিল যে ভীষণ রকম। সাধারণ চাকুরের জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই পরিবারের ব্যাংকের হিসেবের খাতায় জমা আর খরচের অংক সমান সমান। সঞ্চয়ের ঘর শূন্য। সরকারি আবাসন মাথায় উপর থেকে সরে গেলে মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। মরণোত্তর পেনশনের টাকায় ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো অসম্ভব। সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে জিয়াউর রহমান আত্মীয়-স্বজনের কাছে থেকে একটা প্রচ্ছন্ন দূরত্ব বজায় রাখতেন। তাই এই পরিবারের পক্ষে তাদের সান্নিধ্যে যাবার সহজাত অস্তস্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। যে মানুষ দেশের কোটি কোটি মানুষের আত্মার আত্মীয় তাঁর তো আলাদা করে আত্মীয় খুঁজবার দরকার কী। সেজন্যই সম্ভবত দেশের মানুষ কেন-তাঁর দলের ঘনিষ্ঠজনের কাছে অজানা তাঁর ভাই-চাচা আর নিকটাত্মীয়ের নাম পরিচয়। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত তখন একদিকে ধানমন্ডি আর অন্যদিকে ফার্মগেটের রাজপথ ছুঁয়েছে তবুও মানুষের আসার বিরতি নেই। পৃথিবীর কোথাও কারো জানাজায় এতো মানুষের সমাগমের উদাহরণ সম্ভবত আর একটাও নেই।

অনেকের কাছেই এই অসাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষের ভেতরের কথা জানার সুযোগ খুব কমই হয়েছে। নিজ আর পরিবারের চাইতে দেশ যে অনেক বড় তার হাজারো প্রমাণ এই মানুষটির জীবনের পরতে পরতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানিদের আক্রমণের বিভীষিকার সামনে প্রথম বিদ্রোহ করা সেনাকর্মকর্তার নাম জিয়াউর রহমান। তাঁর গায়ে রাজাকার আর আইএমআর-এর এজেন্টের তকমা পরাবার হাস্যকর চেষ্টার প্রত্যুত্তর দেয়া সময়ের অপচয়।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পোশাক পরে তাদের চাইনিজ রাইফেল হাতে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে We Revolt বলার মতো সাহসী দেশপ্রেমিক হতে যে বুকের পাটা প্রয়োজন সেটা রাস্তা-ঘাটে পাওয়া যায় না। সেদিন সৈন্যদল নিয়ে চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে রেললাইন ধরে কালুর ঘাটে যাবার পথে সৈনিকরা জানতে চাইছিল স্যার! বেগম সাহেবাকে বলে গেলেন না! জিয়ার পালটা জিজ্ঞাসা। তুমি বলে যাচ্ছ! না, স্যার! আমার পরিবার তো এখানে নেই। তুমি যখন বলে যাচ্ছ না, তখন আমার বলারই বা দরকার কী? চলো! পরিবারের কাছে মাস খরচের টাকাটাও দেয়া হয় নি। তখন তো সবে ২৫ তারিখ বেতন হবার সুযোগ কোথায়। স্ত্রী আর অসহায় দুটি শিশুকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে আবারও রেডিওর ঘোষণা, আমি মেজর জিয়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। এই বেতার ঘোষণার অর্থ কতটা উপলব্ধি করি আমরা। এই ঘোষণার গভীরতায় নাই বা গেলাম শুধু এই ঘোষণার পরিণতিতে অবধারিত কোর্টমার্শাল মৃত্যুদণ্ড আর পরিবারের জন্য নিদারুণ অনিশ্চয়তা-তবুও সাহসের এতোটুকু ঘাটতি তো ছিল না তাঁর মাঝে। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা বিমান আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে বেতার কেন্দ্র। আবারো অনিশ্চিত যাত্রা সৈন্যদল নিয়ে। কোথায় যাবেন? কোন দেশে? আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি তাদেরকে আকারে ইঙ্গিতে কোন আগাম নির্দেশনা দিয়েছিলেন? ইতিহাস তো সেটা বলে না। পরে ১নং সেক্টরের কমান্ডার হয়েছিলেন কিন্তু জানতেন এই সমতল বাংলাদেশ গেরিলা যুদ্ধে চূড়ান্ত সফলতা অসম্ভব। তাই হাজারো প্রতিকূলতা অতিক্রম করে গড়েছিলেন প্রথম ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’ তাঁর নেতৃত্বে কামালপুরে যুদ্ধ, রৌমারীতে মুক্তাঞ্চল সৃষ্টি-এসব ইতিহাসকে যারা আবদ্ধ রাখতে চান তারা বোকার স্বর্গের অধিবাসী।

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা বা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দেওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। পাকিস্তানের সামরিক একাডেমিতে প্রশিক্ষক থাকাকালে বাঙালি ক্যাডেটদের তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ আর অবশ্যম্ভাবী সংঘাতের পূর্ব প্রস্তুতি দিয়েছেন বরাবর-মেজর হাফিজ তাঁর জবানীতে এই সত্যতার প্রতিধ্বনি যেমন করেছেন তেমনি শহীদ জিয়া নিজের লেখনীতেও জানিয়েছেন বাঙালির সাহস আর যুদ্ধসক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করা পাকিস্তানি অফিসারকে মুষ্টিযুদ্ধে হারিয়ে বাঙালির সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিলেন। পঁয়ষট্টির পাক-ভারত যুদ্ধে বেদিয়ান সেক্টরে জিয়ার কোম্পানির সম্মুখযুদ্ধের অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

স্বাধীনতাযুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরত্ব আর সক্ষমতা দেখানোর পাশাপাশি তাঁর প্রাপ্য সেনাপ্রধানের পদবঞ্চিত হলেও নীরবে মেনে নিয়েছেন শৃঙ্খলার সাথে। গুরুত্বহীন উপ-প্রধান হয়েও সাধ্যমত চেষ্টা করছেন অবদান রাখতে। দেশে যখন নকলের মহোৎসব তখন ক্যাডেট কলেজগুলোর গভর্নিং বডির প্রধান হিসাবে শিক্ষার মানে এতোটুকু ছাড় দেননি-জাতি আজো সেটার ফল ভোগ করছে। সাত নভেম্বর ইতিহাসের আরেক ক্রান্তিকালে নেতৃত্বশূন্য দেশকে দেখিয়েছেন আলোর দিশা। একাত্তরের স্বাধীনতা ঘোষণার মতো। হেনরি কিসিঞ্জার Basket case আর আওয়ামী শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বলা ‘তিন বছর কিছুই দিবার পারবো না’ বিপরীতে তিনি দেশকে দিয়েছেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মুক্ত করেছেন গণতন্ত্র। অর্থনীতিকে দিয়েছেন দিশা-তাঁর দেখানো পথে তৈরি পোশাক রপ্তানি আর বিদেশের শ্রমবাজার থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পথ ধরে যে অর্থনীতি আজ পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে টিকে আছে সেখানে আমরা অতিরিক্ত আর কোন কিছুকে যুক্ত করতে পেরেছি কি? তাঁর মন্ত্রিসভায় সংযুক্ত হয়েছেন অরাজনৈতিক এমনকি ভিন্ন মতাদর্শীরাও শুধুমাত্র তাঁর দেশপ্রেমের বিশুদ্ধতার সম্মানে। তাই অধ্যাপক আবুল ফজল, অধ্যাপক ইব্রাহীম, অধ্যাপক শামসুল আলম, ড. ফজিউদ্দীন মাহতাবরা তাঁর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র আর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বিএম আব্বাস পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি করতে পারেন। বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয় জাপানকে পরাজিত করে।

রাজ্যের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও তিনি স্বজনপ্রীতির সামান্যতম কালিমা তাঁর গায়ে লাগতে দেননি। ছোট চাচা কর্নেল ডা. মমতাজুর রহমানের উৎসাহে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া জিয়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সবিনয়ে তাকে বলেছিলেন-তাঁর বাসায় বেশি না আসতে। শৈশব থেকে একসাথে চলা নিকটাত্মীয়রাও বাসায় সামান্য সৌজন্য উপহার নিয়ে গেলে সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করতেন এই বলে যে, তার যে মাসিক বেতন সেটা দিয়ে সারামাস তাঁর পরিবারকে এই স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া যেহেতু সম্ভব নয় সেজন্য এগুলো না আনতে। তাঁর আপন ছোট ভাই মিজানুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা। গ্যারেজের দোতলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি তাঁর প্রাপ্য পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন বারবার শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের ছোট ভাই পদোন্নতি পেলে স্বজনপ্রীতির ভ্রকুঞ্চন হতে পারে। এই আশঙ্কায় যদিও তিনি নিজেই ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। আপন ছোট ভাই অকৃতদার আহমেদ কামাল ছিলেন পর্যটন কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা- যে সময় ঐ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানতেন না সেকথা। তাঁর বড়ভাই রেজাউর রহমান ছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সাবেক নৌপ্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিরপুরের এক সাধারণ বাড়িতে জীবনযাপন করেছেন। তাঁর আপন চাচাতো ভগ্নীপতি যে এয়ার ভাইস মার্শাল খন্দকার আবুল বাশার সেকথাই বা জানে কয়জন। তাঁর মন্ত্রিসভায় আপ্যায়নের তালিকায় ছিল বিস্কুট আর চা, আর সেই মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রায়ই যে গভীর রাত অবধি গড়াতো বাড়তি আপ্যায়ন ছাড়াই সেটাও তো অজানা আজও। কিশোর তারেক আর আরাফাতের ভাগ্যে নতুন জামা-কাপড়ের সৌভাগ্য তেমন হয়নি। বেশির ভাগ সময় জুটেছে বাবার পুরনো শার্ট, প্যান্টের কাটছাট করা পরিধেয়। রাষ্ট্রীয় সফরে একান্ত বাধ্য না হলে বেগম জিয়াকেও সঙ্গে নেননি কখনো। তারেক-আরাফাতের তো প্রশ্নই ওঠে না।

একবার নেপালের রাজা ধীরেন্দ্র তার ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ফিরতি সফরে যাবার কথা প্রেসিডেন্ট জিয়ার কিশোর তারেকের আবদার নেপালের রাজার ছেলে বাংলাদেশে আসলে সে কেন নেপালে যেতে পারবে না। জিয়ার সাফ জবাব তুমি কোনো রাজার ছেলে নও। শৈশব থেকে আদর্শ আর সততার এমন শৃঙ্খলার মাঝে বড় হওয়া তারেক রহমানের মাঝে যারা বিলাসিতার গন্ধ খোঁজেন তাদের জন্য কেবল করুণা।

রাষ্ট্র পরিচালনার তৃণমূলের খবর নিতে গভীর রাতেও জেলা প্রশাসকদের নিজেই ফোন করতেন। জেলা পর্যায়ে সফরে গেলে সার্কিট হাউজের বাবুর্চির হাতে নিজে টাকা দিয়ে বলতেন, ডাল-সবজি আর ছোট মাছ ভাতের সাথে-যদি কোনো কর্মকর্তা এর বাইরে কিছু করতেন তাহলে সেটা শুধু প্রত্যাখ্যাতই হতো না বরং মাঝরাতে বাবুর্চিকে ডাল রান্না করতে হতো নতুনভাবে। সফরে গেলে নিজ হাতে কাপড় ধুয়ে সারারাত শুকিয়ে সকালে আবারো পরতেন। প্রেসিডেন্টের স্যুটের দৈন্যদশা দেখে যদি কখনো কেউ নতুন স্যুট কোর্টের ব্যবস্থা করেছে তবে তাকে সে টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে ফেরত দিতে বাধ্য করতেন। বিদেশে প্রাপ্ত সফল উপহার সরাসরি জমা দিতেন রাষ্ট্রীয় তোষাখানায়।

বঙ্গভবন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বলে খরচ কমাতে সেনাউপ-প্রধানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণহীন বাড়িতে থেকেছেন আমৃত্যু।

প্রেসিডেন্ট হবার পর একবার জন্মভূমি বগুড়ার বাগবাড়িতে গিয়ে খুঁজে বের করেছিলেন শৈশবের শিক্ষক পণ্ডিত মজিবর রহমানকে। প্রকাশ্যে শত মানুষের সামনে কদমবুছি করে সম্মান জানিয়েছিলেন শিক্ষককে। শিক্ষক সাহস পেয়ে বলেছিলেন বাবা শহরে যাতায়াতে আমাদের সমস্যা হয় খাউরা বিলের উপর ব্রিজটা যদি করে দিতে। প্রেসিডেন্ট বিনয়ের সাথে বলেছিলেন, স্যার! কিছু মনে করবেন না। আমার গ্রামে যাওয়া-আসার ব্রিজটা হবে দেশের শেষ সেতু। সবগুলো ব্রিজ তৈরি শেষ হলে। এমনি মানুষ জিয়াউর রহমান। তাকে নিয়ে বিষোদগার করা সেই সংকীর্ণমনাদের জন্য শেষের কথা, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের খবর লে. কর্নেল শাফায়াত জামিলের কাছে শোনার পর তিনি বলেছিলেন Vice President is there. Let’s uphold the constitution. Get your troops ready. তার বলা এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ যদি তারা ঠিক ঠাক বুঝতেন তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। কিন্তু সমস্যা এক জায়গায়। দেশের ক্রান্তিকালে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের এগিয়ে আসবার কথা তখন সেই ব্যর্থ লগ্নে আশীর্বাদ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। বারবার সেই একাত্তরে স্বাধীনতা ঘোষণার সময় যেমন সত্য, তেমন সত্য ৭ নভেম্বরে দিশাহীন দেশ ও জাতিকে রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রটিও।

সততা দেশপ্রেম: নেতৃত্বে আর ভবিষ্যদর্শিতা যদি কোনো রাষ্ট্রনায়কের অত্যাবশ্যক গুণাবলি হয় তাহলে এদেশে যদি একজনও তেমন জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাঁর নাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। প্রতিপক্ষের যা কিছু আক্রমণ সেটি শুধুমাত্র অন্তহীন ক্ষোভ আর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। কারণ এই সত্য অন্তত তাদের অজানা নয় যে, ইতিহাসের পাতায় শহীদ জিয়ার অবস্থান পর্বত শৃঙ্খের শেষ চূড়ার মতো সেটি স্পর্শ করার ক্ষমতা অন্তত কারো নেই।

লেখক:মওদুদ আলমগীর পাভেল / সাবেক অধ্যক্ষ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ/ আহ্বায়ক – বিএনপি মিডিয়া সেল

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com