

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে শিক্ষার্থী আনাসসহ ছয়জনকে গুলি করে হত্যায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পিছিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার নতুন এ দিন ধার্য করেন।
রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি উভয়পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম রায় ছিল। আর জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞের মামলার দ্বিতীয় রায়। তবে সময় পেছানো হয়েছে।
সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলায় অভিযুক্ত আট পুলিশ সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা রয়েছে প্রসিকিউশনের। আর পুলিশ সদস্য হিসেবে সরকারের আদেশ পালনে তারা বাধ্য ছিলেন বলে দাবি আসামিপক্ষের আইনজীবীর।
এর মধ্যে শীর্ষ চার পুলিশ কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার পুলিশ সদস্যকে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ওয়ারল্যাস বার্তার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করার নির্দেশ দেন। এ সময় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি করেন। নির্দেশনা ও গুলি করার ১৯টি ভিডিও ফুটেজ আদালতে দাখিল করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্য দেন শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়াসহ ২৬ জন।
এদিকে জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ভুক্তভোগী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সাক্ষ্যপ্রদান শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।এ ছাড়া সোমবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।